প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:২৪ (শনিবার)
‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’, সুনামগঞ্জে এসিল্যান্ডের ফেসবুকে পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্ত ফেসবুকে নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদককে দায়ী করে পোস্ট দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। পরে তাঁর অস্বাভাবিক আচরণের খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁর বাসায় যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ‘এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পরপর দুটি পোস্ট দেওয়া হয়। প্রথম পোস্টে লেখা হয়, ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রাণী মোদক দায়ী থাকবে।’ এর কিছুক্ষণ পরের পোস্টে লেখা হয়, ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার।’

পোস্ট দুটি ঘিরে এলাকায় আলোচনা-চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক দাবি করেছেন, এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান মানসিকভাবে অসুস্থ ও ট্রমাগ্রস্ত। এ কারণে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন বলে তাঁর ভাষ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে জামালগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন আরিফুর রহমান। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরে বসবাস করছিলেন। তাঁর মানসিক সমস্যার বিষয়টি আগে থেকেই পারিবারিক পর্যায়ে আলোচিত ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ঘটনার বর্ণনায় ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক জানান, শুক্রবার রাতে তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজন করা হয়। সেখানে স্ত্রীসহ উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান। অনুষ্ঠান শেষে বাসা থেকে বেরিয়ে তিনি ফেসবুকে ওই পোস্টগুলো দেন। এরপর তাঁর আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন ইউএনও।

শিল্পী রাণী মোদকের ভাষ্য, এ সময় এসিল্যান্ড এক আনসার সদস্যকে মারধর করেন এবং তাঁর মেয়েকে হত্যার হুমকি দেন। রাস্তায় অন্যদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে তিনি জানান।

ফেসবুক পোস্ট দেখে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী মিয়াসহ কয়েকজন দ্রুত এসিল্যান্ডের বাসায় যান।

ওসি বন্দে আলী মিয়া জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় এসিল্যান্ডের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। প্রথমে তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একটি ইনজেকশন সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সেটি স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়নি।

ওসি আরও জানান, বাসার ভেতরে তাঁর অস্বাভাবিক আচরণ অব্যাহত থাকায় রাত ১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁকে সিলেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান।

ফেসবুক পোস্টে নিজের নাম উল্লেখ করার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক বলেন, ‘তিনি কেন আমার নাম লিখেছেন, তা আমারও প্রশ্ন। আমি নিজেও বিষয়টি বুঝতে পারছি না।’

এ ঘটনায় ফেসবুক পোস্টের কারণ এবং এর পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি আরও যাচাই করা প্রয়োজন।