ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়ায় একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটি আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
ওসি জানান, গত ২২ অক্টোবর শিশুটি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশের তদন্তেও যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা ভাঙচুর ও শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি মামলা করেছে।
শিক্ষককে মারধর এবং মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন শাহজালাল রুমি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে রুমি বলেন, ‘আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদ্রাসায় এত টাকা কীভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’
ঘটনার বিষয়ে অধ্যক্ষকে আগেই জানিয়েছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তাঁর কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না।’
মেয়ের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন উল্লেখ করে শাহজালাল রুমি বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’
ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পাশাপাশি মাদ্রাসা ভাঙচুর, শিক্ষককে মারধর ও টাকা লুটের অভিযোগের বিষয়েও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন শিশুটির বাবা।