প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৯ (রবিবার)
রোগীর টিউমার থেকেই তৈরি টিকা, ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশা

ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের মারাত্মক ক্যানসার মেলানোমার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন গবেষকেরা। রোগীর নিজস্ব টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তৈরি ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার টিকা প্রচলিত রোগ প্রতিরোধী চিকিৎসার সঙ্গে প্রয়োগ করে ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। এক হাজার ১৩৭ জন রোগীর ওপর পরিচালিত তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় এ সাফল্য পাওয়া গেছে।

২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত গবেষণার ফল অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণের পর উচ্চ ঝুঁকির মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীদের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। এতে ব্যক্তিভিত্তিক টিকা ইনটিসমেরান (ভি৯৪০) এবং পেমব্রোলিজুমাব নামের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাভিত্তিক ওষুধ একসঙ্গে প্রয়োগের ফল তুলনা করা হয় শুধু পেমব্রোলিজুমাব গ্রহণকারী রোগীদের সঙ্গে।

গবেষণায় দেখা যায়, দুই বছর পর টিকা ও ওষুধ একসঙ্গে নেওয়া রোগীদের ৮২ দশমিক ২ শতাংশের ক্যানসার ফিরে আসেনি। অন্যদিকে, শুধু ওষুধ নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৭০ শতাংশ। গবেষকদের হিসাবে, দুই চিকিৎসা একসঙ্গে প্রয়োগে ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি ক্যানসার শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৩৮ শতাংশ।

প্রচলিত টিকা সাধারণত কোনো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই টিকা তৈরি করা হয়েছে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় সহায়তা করার জন্য। এটি বার্তাবাহক আরএনএ (এমআরএনএ) প্রযুক্তিনির্ভর। প্রতিটি রোগীর টিউমারের জিনগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে তাঁর জন্য আলাদা টিকা তৈরি করা হয়।

এই টিকা শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে প্রশিক্ষিত করে। ফলে ক্যানসার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের পর শরীরে থেকে যাওয়া ক্যানসার কোষকে শনাক্ত করে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণার ফল আশাব্যঞ্জক হলেও টিকাটিকে এখনই সব ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। পরীক্ষাটি মূলত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা উচ্চ ঝুঁকির মেলানোমা রোগীদের নিয়ে পরিচালিত হয়েছে। এ ছাড়া, চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও সামগ্রিকভাবে বেঁচে থাকার ওপর প্রভাব মূল্যায়নে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। টিকাটি এখনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পায়নি।

গবেষকেরা আশা করছেন, ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার চিকিৎসার এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়েও নতুন গবেষণার পথ খুলে দেবে। তবে অন্য ক্যানসারের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পৃথক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা প্রয়োজন হবে।