প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৭ (রবিবার)
আজ লক্ষ্মীপুজো

ছবি: সংগৃহীত

আশ্বিনের কোজাগরী পূর্ণিমা মানেই বাঙালি হিন্দুদের ঘরে ঘরে লক্ষ্মী দেবীর আরাধনা। ধন-সম্পদ, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ কামনায় প্রতিবছর এই দিনে পূজার আয়োজন করেন ভক্তরা। ঘরে ঘরে পুজো, আলপনা, নৈবেদ্য আর ভক্তিময় পরিবেশে পূর্ণ হয়ে ওঠে উৎসবের আবহ।

লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে চালের গুঁড়ো দিয়ে আঁকা হয় ঐতিহ্যবাহী আলপনা। ঘরের দোরগোড়া থেকে পুজোর আসন পর্যন্ত শোভা পায় মা লক্ষ্মীর ছোট ছোট পায়ের ছাপ ও পদ্মফুলের নকশা। কোথাও কোথাও এই আলপনা ‘ঝোটি চিতা’ নামেও পরিচিত। ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাজিয়ে তোলা হয় পুজোর স্থান।

পুজোর ভোগের থালায় থাকে নানা ধরনের পিঠেপুলি, মণ্ডা-মিঠাই, নাড়ু, সন্দেশসহ বিভিন্ন মিষ্টি ও নৈবেদ্য। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পারিবারিক মিলন এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হয় এই উৎসব।

প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দুধর্মে সৌভাগ্য, ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী হিসেবে পূজিত হয়ে আসছেন ‘মা লক্ষ্মী’। ভক্তদের বিশ্বাস, তাঁর কৃপায় সংসারে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। তাই শুধু ধনসম্পদ নয়, জীবনের নানা ক্ষেত্রে মঙ্গল কামনা করেও দেবীর আরাধনা করেন তাঁরা।

লক্ষ্মীপুজোয় ভক্তদের প্রার্থনায় থাকে সংসারের অভাব দূর হওয়া, উপার্জন বৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ঘরে অন্নের প্রাচুর্য। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের সুস্বাস্থ্য, রোগ-শোক থেকে মুক্তি, মানসিক প্রশান্তি ও সুন্দর জীবনও তাঁদের কামনার অংশ। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক-এমন প্রার্থনাও করেন অনেকে।

সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুজো বাঙালি হিন্দুদের কাছে শুধু ধন-সম্পদের দেবীর আরাধনা নয়; এটি সুখ, শান্তি, অন্ন, সুস্বাস্থ্য ও পারিবারিক মঙ্গলের প্রত্যাশায় এক ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব।