শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মুনিরা আক্তার সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ঢাকার বাংলাদেশ মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম মুনিরার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, দিনাজপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফেরার পথে শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মুনিরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুনায়েদ জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মুনিরা। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়।
মুনিরার অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মুনিরার অকালমৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ঘটনাটি জানার পর থেকেই আমি জুনায়েদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। তাৎক্ষণিকভাবে পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে যান। সেখানে বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. জহির বিন আলমও উপস্থিত ছিলেন। শুরু থেকেই মুনিরার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করেছে।’
চলতি বছরে প্রাণ গেল ৮ শিক্ষার্থীর
মুনিরার মৃত্যুতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি বছরে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটে। বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে যে মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছিল, তা থামেনি অক্টোবরেও। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের কয়েকটি ঘটনায় একের পর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে ক্যাম্পাসজুড়ে শোকের আবহ আরও গভীর হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহত আট শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন পানিতে ডুবে, তিনজন সড়ক দুর্ঘটনায়, একজন আকস্মিক অসুস্থতায় এবং অন্যজন কীটনাশক পান করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। একের পর এক শিক্ষার্থীর এমন অকালমৃত্যুতে স্বজনদের পাশাপাশি শোকাহত সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা।