প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৩২ (সোমবার)
ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তাহিরপুরে উত্তেজনা, অভিযুক্ত পুলিশের হেফাজতে

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে স্থানীয়দের বিক্ষোভের পর কৃপেশ রায় (৪০) নামের এক জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে কৃপেশের দাবি, তাঁর ও পরিবারের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি আগেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
কৃপেশ রায় তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামের ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র রায়ের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) ‘Kripash Ray’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল করেন স্থানীয় একদল মানুষ।

এদিকে, কৃপেশ রায় দাবি করেছেন, অজ্ঞাত কেউ তাঁর ও পরিবারের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক মন্তব্য ছড়াচ্ছে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ পরিস্থিতিতে সোমবার তিনি তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

কৃপেশের প্রতিবেশী কাঞ্চন রায় জানান, তিনি কৃপেশের মূল ফেসবুক আইডিতে যুক্ত আছেন। আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া আইডি থেকে তাঁকেসহ অনেককে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল। রোববার ওই আইডি থেকে পোস্ট দেওয়ার পর কৃপেশ থানায় জিডি করেন বলে তিনি জানান।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জুনাব আলী, দলটির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রাজারগাঁওয়ে যান। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ করেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে কৃপেশ রায়কে হেফাজতে নেয়।

তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন, উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কেউ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেন, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। এখন আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে।

কৃপেশের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আগে সিলেটের লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে প্রায় এক বছর ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তাঁর বর্তমান চাকরির অবস্থা সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত নন।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক আহমেদ বলেন, কৃপেশ পুলিশের একজন গরহাজির সদস্য। তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর করা জিডির বিষয়টিও তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া ফেসবুক আইডিটির প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কৃপেশের করা জিডির বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ।