ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পক্ষে সাফাই গেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শুরু করেছে তেহরান, ওয়াশিংটন নয়। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে আগে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে ‘সময়ের অপচয়’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের করিন্থে এক নির্বাচনি প্রচারসভায় এসব কথা বলেন ট্রাম্প। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে ‘ক্রসরোডস অ্যারেনা’য় আয়োজিত এ সমাবেশে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। খবর আলজাজিরার।
সমাবেশে এক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং ইরানই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা করেছে।
সামরিক অভিযানের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, তেলসহ বিভিন্ন খনিজ পণ্যের দাম আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে বলে তিনি আগেই ধারণা করেছিলেন।
সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না এবং অনেক আগেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।
ইরানের সঙ্গে পূর্ববর্তী সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ ছিল না। পরিস্থিতি ভালো করার উদ্দেশ্যে ওই সমঝোতায় যাওয়া হলেও তাঁর মতে, সেটি শেষ পর্যন্ত সময়ের অপচয় হয়েছে।
বক্তব্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির বিষয়টিও সামনে আনেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছিল, যা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ডিয়েগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসব বক্তব্যের পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য তিনি সমাবেশে তুলে ধরেছেন কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।