ছবি: সংগৃহীত
অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ না দেওয়া ও তাঁর খোঁজখবর না রাখার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন ইসলামী ধর্মীয় বক্তা হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। ছেলের বিরুদ্ধে বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহর অভিযোগের পর তাঁর দেওয়া একটি স্ট্যাটাস ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের দেওয়া ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাশরীফের ফেসবুক স্ট্যাটাস ছিলো ‘মিডিয়া চাইলে বাপকেও কিনতে পারে’।
এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ভিডিও সাক্ষাৎকারে ছেলে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তাঁর বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি দাবি করেন, অসুস্থ অবস্থায় ছেলের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েও পাননি। এমনকি ছেলে তাঁর খোঁজখবরও রাখেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হেদায়েতুল্লাহর ভাষ্য, ছেলের পরামর্শে তিনি মসজিদের ইমামতির চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিনিময়ে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি কোনো টাকা পাননি।
সাক্ষাৎকারে ছেলেকে লেখাপড়া করানো ও চিকিৎসার জন্য তাঁর দীর্ঘদিনের সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন হেদায়েতুল্লাহ। তিনি বলেন, ছেলেকে হাফেজ ও মাওলানা হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। শৈশবে ছেলের অসুস্থতার সময় আর্থিক সংকটের মধ্যেও মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের অসুস্থতার সময় ছেলের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, তিনি টাকা চাইলে ছেলে জমি কেনার কথা বলে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এদিকে, গত বছর ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসকে পুড়িয়ে মারার ঘটনার পক্ষে লাইভ করে প্রথমবারের মতো সমালোচনা মুখে পড়েন তাশরীফ। সম্প্রতি টঙ্গীর একটি মাদরাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় ওই শিক্ষকের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। এর মধ্যেই বাবার অভিযোগ সামনে আসায় তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে বাবার তোলা অভিযোগগুলোর বিষয়ে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।