ছবি: ইমজা নিউজ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। একসময় যে জমিতে ফলত সোনালি ফসল, সেখানে এখন বইছে নদীর স্রোত। নদীভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছেন কৃষক ও নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। অথচ কুশিয়ারা নদীর ডাইক নির্মাণ ও মেরামতে শত শত কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চললেও ভাঙনকবলিত অনেক এলাকায় কার্যকর সুরক্ষা মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে নদীর অপর পাড়ের সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নেও। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অন্তত ৫০০ পরিবারের বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। অনেক কৃষক হারিয়েছেন তাঁদের জমি, যা ছিল পরিবারের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন।
এক ভুক্তভোগী কৃষক বলেন, ‘আমার এখানে তিন একর জমি ছিল। নদীভাঙনে সব বিলীন হয়ে গেছে। সরকারিভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও আমরা ঠিকাদারকে ভাঙনকবলিত স্থানে বস্তা ফেলার অনুরোধ করি। কিন্তু তাঁরা শুকনো জায়গায় বস্তা ফেলার কথা বলেন। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের জমি ও বাড়িঘর রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ডাইক নির্মাণ ও মেরামতের উদ্যোগ থাকলেও কাজের অনিয়মের কারণে এলাকাবাসী প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না। নদীভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
দীঘলবাক ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মহসীন মিয়া বলেন, দীঘলবাকসহ কুশিয়ারা নদীতীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কাজ করলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবছরই নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছায়েদুর রহমান বলেন, শেরপুর সেতু থেকে দীঘলবাক, পাহাড়পুর, মার্কুলী হয়ে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় কাজ চলছে। তবে দীঘলবাকের সব এলাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি। যেসব স্থানে কাজ হয়েছে, সেখানে ভাঙন রোধ করা গেছে। বাকি ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ চললেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পর্যায়ক্রমে বাকি এলাকাগুলোতেও কাজ করা হবে।
কুশিয়ারা নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি বসতভিটা হারিয়ে আরও অসহায় হয়ে পড়বেন নদীপাড়ের মানুষ। তাই ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ডাইক নির্মাণ ও মেরামতের কাজ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।