ছবি: সংগৃহীত
যে সন্তানকে ঘিরে একদিন বোনা হয়েছিল স্বপ্নের জাল, সেই সন্তানের অত্যাচারেই শেষ পর্যন্ত অসহায় হয়ে পড়লেন মা-বাবা। মাদকের নেশায় পরিবারের শান্তি ও স্বস্তি হারিয়ে যাওয়ার পর আর কোনো উপায় না পেয়ে ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তাঁরা। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এমন ঘটনার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই যুবককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর গ্রামে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল আলীম ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আলীমের মাদকাসক্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিলেন তাঁর মা-বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। ছেলেকে মাদকের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে নানা চেষ্টা করেও সফল হননি তাঁরা। পরিবারের প্রত্যাশা আর অনুরোধের জায়গায় ক্রমেই জমতে থাকে হতাশা ও অসহায়ত্ব।
অভিযোগ রয়েছে, বাড়িতে বসেই ইয়াবা সেবন করতেন আব্দুল আলীম। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মারধরও করতেন তিনি। এতে ঘরের ভেতরেই তৈরি হয়েছিল অশান্ত পরিবেশ, যার প্রভাব পড়ছিল পরিবারের সবার জীবনে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইয়াবা সেবনের পর বাড়িতে মাতলামি শুরু করেন আব্দুল আলীম। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আটক করে।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তাঁর মা-বাবা। যে সন্তানকে আগলে রেখে বড় করেছেন, তার বিরুদ্ধেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া তাঁদের জন্য সহজ ছিল না। তবে পরিবারের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার তাগিদে শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্তটি নেন তাঁরা।
আব্দুল আলীমের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছেলের কর্মকাণ্ডে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকাবাসীও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। বাধ্য হয়েই তিনি ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শুনানি শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিপা মনি দেবী। ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করায় আব্দুল আলীমকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর বাবা ও স্থানীয় গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপা মনি দেবী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে পুরো পরিবার অতিষ্ঠ ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।