প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:২৭ (বৃহস্পতিবার)
‘ইসলামের পরিপন্থী’ দাবি করে আফগানিস্তানে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধ করল তালেবান

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনকে ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী দাবি করে এ চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তালেবান কর্তৃপক্ষ। এর ফলে দেশটিতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা শত শত মানুষ চিকিৎসার সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। কয়েক দশকের সংঘাত ও বিস্ফোরণে চোখের ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের জন্য কর্নিয়া প্রতিস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা হলেও তালেবানের নির্দেশে হাসপাতালগুলোতে এ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কাবুলের নূর আই হাসপাতালের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন কার্যক্রম তালেবানের মৌখিক নির্দেশের পর বন্ধ রাখা হয়েছে। হাসপাতালটির চিকিৎসক নূর জামান হাশিম জানান, দেশটিতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু পর্যাপ্ত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য কর্নিয়ার অভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, কয়েক দশকের সহিংসতা আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর মধ্যে তালেবানের নির্দেশে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। কঠোর শাস্তির আশঙ্কায় কেউ এ নির্দেশ অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ভিত্তিক সামাজিক সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব পাকিস্তানি ডিসেন্ট অব নর্থ আমেরিকা (এপিপিএনএ) বিনামূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ এবং আফগান চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ চিকিৎসা কার্যক্রম সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছিল।

সংস্থাটির কর্নিয়া কর্মসূচির প্রধান চিকিৎসক ফাওয়াদ জাফর জানান, ২০১৭ সাল থেকে তাঁরা পাকিস্তানে বিনামূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ করছেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। প্রায় চার মাস আগে আফগানিস্তানেও কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা হয়। সেখানে শত শত মানুষের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল। তবে তালেবানের নির্দেশে কর্মসূচিটি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

চিকিৎসা বন্ধের প্রভাব পড়েছে অপেক্ষমাণ রোগীদের ওপরও। কাবুলে গ্যাস বিস্ফোরণে দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যবসায়ী সালামাত খান জানান, বিনামূল্যে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের সুযোগের কথা শুনে তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে সেপ্টেম্বরে অস্ত্রোপচারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু আগস্টেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে যান।

একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন জালালাবাদের ৪০ বছর বয়সী খাদিজা বেগম। বিস্ফোরণে চোখে আঘাত পাওয়ার পর তিনি জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত মাসে তালেবান কর্তৃপক্ষ কর্নিয়া প্রতিস্থাপনকে ইসলামী শিক্ষার বিরোধী দাবি করে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়।

এদিকে, এপিপিএনএ এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেওয়ার জন্য তালেবান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, কয়েক দশকের সংঘাতে বিপর্যস্ত আফগানিস্তানে এ চিকিৎসাসেবার ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধ থাকলে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বহু মানুষ চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।