প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭ (শনিবার)
ল্যাপটপ চুরির মামলায় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট ২০২৪ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানসহ মোট ৯৯ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। গত ৩১ জুলাই জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল দীর্ঘ তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালতে ‘অভিযোগপত্র নং- ১২১’ দাখিল করেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ১৪৩, ৪৪৮, ৪২৭, ৪৩৬, ৩৮০, ১১৪ এবং ৩৪ ধারায় দাখিলকৃত এই অভিযোগপত্রে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানকে ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি এবং ঘটনার প্রধান ষড়যন্ত্রকারী ও উসকানিদাতা হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। গত ১৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে জগন্নাথপুর থানায় দায়েরকৃত এই মামলাটি (নম্বর- ১২) বিচারে সোপর্দকরণের উদ্দেশ্যে পুলিশ এই প্রতিবেদন দাখিল করে। 
মামলার বাদী মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: আব্দুর নূর-এর দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকর্মী বাজারে সংঘবদ্ধ হয়ে ক্রমাগত উসকানিমূলক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মীরপুর বাজারে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে তাণ্ডব চালায়।
চার্জশিট অনুযায়ী, ১৭ নভেম্বর রাতের এই হামলায় ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান (৭২)-এর নির্দেশ ও প্ররোচনা ছিল। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় অপরাধে প্রত্যক্ষ উপস্থিতি না থাকলেও দণ্ডবিধির ১১৪ এবং ৩৪ ধারায় অপরাধের রূপরেখা তৈরির দায়ে সাবেক এই মন্ত্রীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ উল্লেখ করেছে, তার সবুজ সংকেত ও প্ররোচনাতেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালায়।
এই মামলায় অন্যতম আলোচিত দিক হলো সাবেক মন্ত্রীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ল্যাপটপ ও এলইডি টিভি চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় কার্যালয়ের ভেতরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়। এর মধ্যে মামলার ৩৫ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি জামিল হোসেন ইফতি (২৪) যিনি মীরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কার্যালয় থেকে ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা মূল্যের একটি দামি ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যান বলে তদন্তে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া ২৫ নম্বর আসামি নুর মোহাম্মদ জুয়েল অফিসকক্ষে থাকা ২০,০০০ টাকা মূল্যের একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি চুরি করেন। দণ্ডবিধির ৩৮০ ধারায় এই চুরির অপরাধ যুক্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছে।
হামলার সময় ১১ নম্বর আসামি আব্দুস সালাম রিজভি পেট্রোলিয়াম বা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে অফিসে আগুন ধরিয়ে দেন এবং অন্যান্য আসামিরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসহ দলীয় প্রতীক ও জাতীয় পতাকায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান।
চার্জশিটভুক্ত মোট ৯৯ জন আসামির মধ্যে এক নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ মোট ৪৯ জন আসামি বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন। সরাসরি হিংসাত্মক হামলায় অভিযুক্ত ২ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি রেজাউল করিম রিজু এবং ৭ নম্বর আসামি আব্দুস সহীদ মেম্বার বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। ল্যাপটপ ও টিভি চুরির সাথে জড়িত জামিল হোসেন ইফতিসহ মোট ৪৮ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের বিচারে উপস্থিত করতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ও ৮৮ ধারা অনুযায়ী আদালতের নিকট গ্রেফতারি পরোয়ানা ও ক্রোকি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পোড়া আসবাবপত্র, দগ্ধ প্লাস্টিক ও ব্যানারের অবশিষ্টাংশ আدمত হিসেবে জব্দ করেছে। চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে মামলাটি এখন চার্জ গঠন ও সমন জারির পরবর্তী ধাপে উন্নীত হয়েছে। 
বিষয়টি নিয়ে জগন্নাথপুর থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, তিনি গতকালই যোগদান করেছেন এই চার্জশীটের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে অভিযোগপত্রটি দেখে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে জানান।