ছবি: সংগৃহীত
এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হার এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির বিপক্ষে পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে দেপোর্তিভো আলাভেসকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া ও স্প্যানিশ তরুণ লামিনে ইয়ামাল। একটি করে গোল পেয়েছেন ফারমিন লোপেজ ও অ্যান্থনি গর্ডন। এই জয়ে আবারও লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে কাতালানরা।
টানা দুই হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বার্সেলোনার সামনে ছিল নিজেদের মাঠে আলাভেসের বিপক্ষে ম্যাচ। ৩১ অক্টোবর শনিবার স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল তারা।
ম্যাচের শুরুতেই রাফিনিয়ার গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। এরপর ফারমিন লোপেজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও দুটি গোল করে বিরতিতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্লিকের দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে বার্সেলোনা। ইয়ামাল নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার পর বদলি হিসেবে নামা অ্যান্থনি গর্ডনও স্কোরশিটে নাম লেখান। শেষ দিকে আলাভেসের হয়ে একটি গোল শোধ করেন মারিয়ানো দিয়াজ। তাতে অবশ্য বড় জয়ের আনন্দে কোনো ভাটা পড়েনি বার্সেলোনার।
রাফিনিয়ার গোলে শুরু, ফারমিনের দুর্দান্ত জবাব
ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। ফারমিন লোপেজের বাড়ানো বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। এতে শুরুতেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় স্বাগতিক শিবির।
২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফারমিন লোপেজ। লামিনে ইয়ামালের পাস পেয়ে কঠিন কোণ থেকে দুর্দান্ত শটে আলাভেসের জালে বল পাঠান তিনি।
এরপর ব্যবধান বাড়ানোর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে বার্সেলোনা। ৩২ মিনিটে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন রাফিনিয়া। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে নিজের ভুল শুধরে নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
৪১ মিনিটে ফারমিন লোপেজের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনিয়া। এতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বার্সেলোনার হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন ইয়ামাল। জোয়াও কানসেলোর পাস পেয়ে নিখুঁত শটে আলাভেসের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। বিরতিতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে বার্সেলোনা।
দ্বিতীয়ার্ধেও থামেনি গোলের উৎসব
চার গোলের লিড নিয়েও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ থেকে সরে আসেনি বার্সেলোনা। আলাভেসের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে একের পর এক আক্রমণে।
৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুসের বাড়ানো বল পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দারুণ ফিনিশিং করেন তিনি। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
এরপর ৭৪ মিনিটে ইয়ামালের পরিবর্তে মাঠে নামেন ইংলিশ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন। মাঠে নামার সাত মিনিটের মধ্যেই গোলের দেখা পান তিনি।
৮১ মিনিটে রদ্রির বাড়ানো বল পেয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার শটে বল জালে পাঠান গর্ডন। এতে বার্সেলোনার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ছয়ে।
ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আলাভেসের হয়ে সান্ত্বনাসূচক গোল করেন মারিয়ানো দিয়াজ। শেষ পর্যন্ত ৬-১ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।