প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৯ (মঙ্গলবার)
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ, আরেক দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেছেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই চেতনা-দুটোকেই যথাযথ সম্মান দিতে চায়। জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে, একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদেরও সম্মান জানাতে হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিজের তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ব্যবসা করতে চাই না। তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান তাকে দিতে হবে। জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।

নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, তিনি ও তার পরিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাকে দীর্ঘ ছুটি দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান দেশের জন্য অনেক পরিশ্রম করেন। একদিন অফিস সময়ের পর তার সঙ্গে কথা বলার সময় দেখেছেন, তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত থাকলেও কথাবার্তায় ক্লান্তির ছাপ ছিল না। তিনি সব সময় দেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, এর প্রতিফলন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষায় সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান। সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার একেএম কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।