প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০২৬ ২০:০২ (মঙ্গলবার)
দীর্ঘ ৮ বছর পর চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ২৮ নভেম্বর

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে দেশের চা শ্রমিকদের। আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের ২৩১টি চা বাগানের লক্ষাধিক শ্রমিক এ নির্বাচনে ভোট দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম অধিদপ্তরের অধীন গঠিত নির্বাচন কমিশন এ তফসিল ঘোষণা করে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুছ সামাদ আল আজাদ স্বাক্ষরিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৮ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের পাঁচ জেলার ২০টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ৫ ও ৬ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে। ৫, ৬ ও ৯ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

১০ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা এবং ১১ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। ১১ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে প্যানেলভিত্তিক খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১২ নভেম্বর বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের ওপর আপিল ও শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ নভেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে।

১৪ নভেম্বর সকাল ১১টায় প্যানেলভিত্তিক চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১৪ ও ১৫ নভেম্বর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

নির্বাচনে প্রতিটি চা বাগানের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫ সদস্যের পঞ্চায়েত কমিটি, লস্করপুর, বালিশিরা, মনু-ধলাই, লংলা, জুড়ী, সিলেট ও চট্টগ্রাম—এই সাতটি ভ্যালির কার্যকরী পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সভাপতি ও সম্পাদকমণ্ডলী নির্বাচন করা হবে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ আট বছর পর অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রার্থী এবং ছয় শতাধিক প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের ২৩১টি চা বাগানের লক্ষাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও উচ্চ আদালতে মামলা ও অন্যান্য জটিলতায় ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৪ জুন এ ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুছ সামাদ আল আজাদকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে ১১ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।

কমিশন গঠনের পর থেকেই চা বাগানগুলোতে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়। কেন্দ্রীয়, ভ্যালি ও পঞ্চায়েত পর্যায়ের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।

নির্বাচন কমিশনের সদস্য ও শ্রীমঙ্গল বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক মহব্বত হোসাইন বলেন, শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন মাখন লাল কর্মকার এবং সাধারণ সম্পাদক হন রামভজন কৈরী। পরে সভাপতির অসুস্থতার কারণে সহসভাপতি পঙ্কজ কন্দ কার্যত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। রামভজন কৈরী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ইউনিয়নের দায়িত্ব ছেড়ে দিলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন নিপেন পাল। সম্প্রতি সভাপতি মাখন লাল কর্মকার মারা যান।

এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদে রামভজন কৈরী, রাজু গোয়ালা ও পঙ্কজ কন্দের নাম আলোচনায় রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে নিপেন পাল ও পরেশ কালিন্দির নেতৃত্বাধীন প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদপ্রার্থী বিজয় বুনারজি বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। কমিটিগুলোও অনেকটা স্থবির হয়ে গেছে।

ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, শ্রমিকরা এখন এমন নেতৃত্ব চান, যারা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি তাদের উচ্চ মজুরি ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবেন। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, যথাসময়ে বেতন প্রদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের উন্নত শিক্ষার সুযোগ এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।