প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:১৩ (মঙ্গলবার)
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল নিয়ে চিঠি, স্মারক নম্বরে সাল ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে চিঠির স্মারক নম্বরের শেষে ২০১৯ সাল লেখা থাকায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এটি টাইপিংয়ের ভুল। বরাদ্দ চাওয়া অর্থের হিসাবে কোনো ভুল নেই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ১২ মাসের বেতন-ভাতা দিতে প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব তুলে ধরা হয়।

হিসাব বিবরণী পাওয়ার পর তা দ্রুত অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। দ্রুত চিঠি প্রস্তুত করতে গিয়ে টাইপিংয়ের ভুলে স্মারক নম্বরে ২০১৯ লেখা হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। তবে বরাদ্দ চাওয়া অর্থের পরিমাণ সঠিক রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী ৪ নভেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন কর্মসূচি রয়েছে। বিষয়টি সরকার অবগত। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত নতুন পে স্কেলে অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। টাইপিংয়ের ভুলের কারণে স্মারক নম্বরে ভুল হয়ে থাকতে পারে।

শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে থেকে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির ওপর নির্ভর করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় যত দ্রুত সম্মতি দেবে, তত দ্রুত নতুন স্কেলে বেতন-ভাতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এর আগে রোববার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুকূলে এ অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের চাকরির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, কল্যাণ এবং সামগ্রিক সেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে আনুপাতিক বাজেট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চিঠির হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বেসরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ৭৩৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। দুই খাত মিলিয়ে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। নতুন স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ দিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।