প্রকাশিত : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩৫ (বুধবার)
টেস্ট পরীক্ষায় বহিষ্কারের পর বিদ্যালয়ে বোমা বিস্ফোরণ!

ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি নির্বাচনি পরীক্ষায় নকলের চেষ্টার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছিল এক শিক্ষার্থীকে। এর কিছুক্ষণ পরই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে ছোড়া হয় দুটি বোমাসদৃশ বস্তু। বিকট বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে। এ ঘটনায় বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তার সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি মোটরসাইকেল।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনি (টেস্ট) পরীক্ষায় বহিষ্কারের জেরে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুটি বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে এসব বস্তু নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিস্ফোরণের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনি পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় নকলের চেষ্টার অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামের এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বহিষ্কারের পর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। পরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করা হয়। সেগুলো বিস্ফোরিত হলে বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযুক্ত তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘আমি তখন আমার নিজ কক্ষে ছিলাম। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে সবাইকে বের হতে দেখি। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা বলতে পারব না।’

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন জমা দিতে বলা হয়েছিল। কয়েকজন জমা দেয়। পরে তানজিন রহমান রিদু নামের এক শিক্ষার্থী নকলের চেষ্টা করলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এর পরই বাইরে এ ঘটনা ঘটে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

এ বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।