প্রকাশিত : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৯:৫২ (বুধবার)
প্রাথমিকে শিক্ষকতা করছেন প্রকৌশলী-চিকিৎসক, রয়েছেন ৪২ এমফিল-পিএইচডিধারী

সিলেট জেলার শেষ্ঠ শিক্ষক বিউটি পাল ( ছবি: সংগৃহীত)

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা মানেই শুধু সাধারণ স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের পেশা-এ ধারণা বদলে যাচ্ছে। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, আইন বিষয়ে ডিগ্রিধারী, চিকিৎসা ও নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করা ব্যক্তিরাও। এমনকি রয়েছেন এমফিল ও পিএইচডিধারী শিক্ষকও। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার এমন বৈচিত্র্য। সব মিলিয়ে ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশায় উচ্চশিক্ষিতদের অংশগ্রহণের চিত্র উঠে এসেছে নতুন এক পরিসংখ্যানে। প্রকৌশল, কৃষি, আইন, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের পাশাপাশি এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএসের (ইন্টিগ্রেটেড প্রাইমারি এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) ২৮ অক্টোবরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩০ ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক রয়েছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষক মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। তাঁদের সংখ্যা ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৪ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন স্নাতক (পাস) ডিগ্রিধারীরা। তাঁদের সংখ্যা ৯৯ হাজার ৯৭৭ জন।


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন বিভিন্ন প্রকৌশল ও কৃষিবিষয়ক ডিগ্রিধারীরাও।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ১ হাজার ৬১৭ জন। বিএসসি ইন অ্যাগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী ২৫৮ জন এবং ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী ৪৯ জন শিক্ষক রয়েছেন।

আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষকদের মধ্যে এলএলএম ডিগ্রিধারী ৩৮৬ জন এবং এলএলবি ডিগ্রিধারী ৩১৬ জন।

এ ছাড়া এমএড ডিগ্রিধারী ৩৬৭ জন, বিএড (অনার্স) ডিগ্রিধারী ২৮৭ জন এবং বিএড ডিগ্রিধারী ২৫৮ জন শিক্ষক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণাভিত্তিক ডিগ্রিধারী শিক্ষকও রয়েছেন। আইপিইএমআইএসের তথ্য অনুযায়ী, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংখ্যা ৪২ জন।

এ ছাড়া কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রিধারী ২১ জন এবং এমএসসি ডিগ্রিধারী ১৭ জন শিক্ষক রয়েছেন।

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতাও রয়েছে কিছু শিক্ষকের। তাঁদের মধ্যে ম্যাটস ডিগ্রিধারী ৪১ জন, নার্সিং বিষয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন ২৩ জন এবং বিডিএস (ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি) ডিগ্রিধারী চারজন শিক্ষক রয়েছেন।

এ ছাড়া ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করা শিক্ষক ৪৩৮ জন, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারী ১২৬ জন, বিপিএড ডিগ্রিধারী ২৮ জন এবং বিএজিইডি ডিগ্রিধারী ১০ জন। ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার টেকনোলজি ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন চারজন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন ডিগ্রিধারী শিক্ষকও কর্মরত রয়েছেন।

আইপিইএমআইএসের তথ্য অনুযায়ী, কামিল পাস শিক্ষক রয়েছেন ৫ হাজার ৭৪১ জন। ফাজিল পাস ১ হাজার ৮৯৭ জন, আলিম পাস ১ হাজার ২৩৮ জন এবং দাখিল পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪১২ জন।

শিক্ষকদের সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এইচএসসি পাশ রয়েছেন ৪২ হাজার ২৪২ জন, স্নাতক (সম্মান) ২০ হাজার ৯৬৯ জন, বিএসএস ১৩ হাজার ১৪৯ জন, এসএসসি

৮ হাজার ৫৬৩ জন, এমবিএ ৭ হাজার ৭১৯ জন, ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী শিক্ষক বেশি
বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য তথ্য। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষক রয়েছেন ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী।

আইপিইএমআইএসের তথ্য অনুযায়ী, এই বয়সসীমার শিক্ষক ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯৬ জন। ৪৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষক ১ লাখ ৮ হাজার ৭৮২ জন।

এ ছাড়া ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শিক্ষক রয়েছেন ৮২ হাজার ৮৬০ জন। ৫৬ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষক ২৪ হাজার ৫৮৭ জন।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নারী শিক্ষকের সংখ্যা পুরুষ শিক্ষকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

আইপিইএমআইএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯৭০ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৫ জন এবং পুরুষ ১ লাখ ২৩ হাজার ১৩৪ জন।

শতকরা হিসাবে নারী শিক্ষক ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং পুরুষ শিক্ষক ৩৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ বলে পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত এসব শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতার পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, প্রাথমিক শিক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ের উচ্চশিক্ষিতদের অংশগ্রহণ রয়েছে। সাধারণ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি প্রকৌশল, কৃষি, আইন, চিকিৎসা ও গবেষণাভিত্তিক ডিগ্রিধারীরাও এ পেশায় যুক্ত হয়েছেন।