ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো। নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই শুধু ‘স্যরি’ (Sorry) লিখে একটি পোস্ট প্রকাশ করে পত্রিকাটি। এরপর থেকেই পাঠকদের মধ্যে শুরু হয় নানা কৌতূহল। কেউ ভাবেন, প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ কি হ্যাক হয়েছে? কেউ মনে করেন, কোনো ভুল বা বিতর্কিত ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইছে সংবাদমাধ্যমটি। আবার কেউ এটিকে নতুন কোনো মার্কেটিং কৌশল হিসেবে দেখেন।
তবে শেষ পর্যন্ত জানা গেছে, এটি কোনো হ্যাকিং কিংবা প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়। প্রথম আলোর রম্য সাময়িকী ‘রস+আলো’র একটি বিশেষ সংখ্যাকে ঘিরে পরিকল্পিত প্রচারণার অংশ ছিল এই ‘স্যরি’ পোস্ট।
কেন এই ‘স্যরি’?
প্রথম আলোর ১ নভেম্বর প্রকাশিত ‘রস+আলো’র বিশেষ লেখায় বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। ‘স্যরি!’ শিরোনামের ওই লেখায় জানানো হয়, এবারের সংখ্যায় রস+আলো পাঠকদের জন্য প্রচলিত অর্থে কোনো প্রচ্ছদ বা কভার দিতে পারেনি। কারণ, তাদের ভাষায়, এবার আইডিয়ারই সংকট দেখা দিয়েছে।
দেশে গ্যাস, তেল, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের মতো রম্য আইডিয়ার ক্ষেত্রেও সংকট তৈরি হয়েছে- এমন বিষয়কে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে লেখাটিতে। তাই পাঠকদের কাছে দুঃখ প্রকাশের প্রতীকী বার্তা হিসেবে ব্যবহার করা হয় শুধু ‘স্যরি’ শব্দটি।
পাঠকদের মন্তব্যে কী ছিল?
পোস্টটি প্রকাশের পর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ পেজ হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কেউ আবার এর পেছনের রহস্য জানতে চান।
মির্জা হাসিব নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্যে প্রথমে পেজ হ্যাক হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান। পরে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের পেজেও একই ধরনের পোস্ট দেখে এবং রস+আলোর সাম্প্রতিক প্রচ্ছদহীন আয়োজনের কথা মনে করে তিনি এটিকে প্রচারণার অংশ বলে বুঝতে পারেন। তাঁর মন্তব্যে এই কৌশলকে ভালো মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নাকি অন্য কোনো আয়োজনের প্রচারণা।
এ ছাড়া কেউ পোস্টটিকে নিছক রসিকতা হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ এর পেছনের কারণ জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া প্রতিক্রিয়ার মধ্যে হ্যাকিংয়ের আশঙ্কা ও প্রচারণার ধারণাই বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
প্রচ্ছদ আঁকার আহ্বান, পুরস্কারও ঘোষণা
‘রস+আলো’র ওই লেখায় পাঠকদের জন্য একটি মজার প্রতিযোগিতার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। প্রচ্ছদ না থাকায় পাঠকদের নিজেদের পছন্দমতো রংপেনসিল দিয়ে কভার আঁকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপর আঁকা প্রচ্ছদের ছবি তুলে রস+আলোর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ট্যাগ করে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করতে বলা হয়েছে।
সেরা তিনটি প্রচ্ছদ পরবর্তী সংখ্যায় ছাপানো হবে। পাশাপাশি বিজয়ীদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও রয়েছে।
তাহলে কি এটি নতুন মার্কেটিং কৌশল?
প্রথম আলোর এই উদ্যোগকে প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বাইরে একটি সৃজনশীল প্রচারণা বলা যায়। এখানে একটি শব্দ-‘স্যরি’-ব্যবহার করে পাঠকদের মনে কৌতূহল তৈরি করা হয়েছে। সেই কৌতূহল থেকেই তৈরি হয়েছে আলোচনা, মন্তব্য ও প্রচারণার বিস্তার।
অর্থাৎ, প্রথম আলোর ‘স্যরি’ কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা নয়। এটি ছিল ‘রস+আলো’র প্রচ্ছদহীন বিশেষ সংখ্যার বিষয়বস্তু তুলে ধরার একটি রম্যধর্মী প্রচারণা। পাঠকদের কৌতূহল তৈরি করে তাঁদের সরাসরি একটি সৃজনশীল প্রতিযোগিতায় যুক্ত করাও ছিল এই আয়োজনের অংশ।