ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের (পিএটিআই) কর্মসংস্থান ও অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে তিনটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন বিভাগ। কৃষি খাত, ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে কাজ করার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ‘অপ হিজাউ’, ‘অপ জাজা’ ও ‘অপ বেলাঞ্জা’ নামে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন ইসমাইল নাসুশন জানান, অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি ও অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধে সরকার নিয়মিতভাবে নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ খাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অপ হিজাউ’ অভিযানের আওতায় কৃষি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ফসলের খামার, পশুপালন কেন্দ্র ও নার্সারিতে নজরদারি করা হচ্ছে। ‘অপ জাজা’ অভিযানে রাতের বাজার, কৃষিপণ্যের বাজার, পাইকারি বাজার, ফলের দোকান এবং সড়কের পাশের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘অপ বেলাঞ্জা’ অভিযানের আওতায় সুপারমার্কেট, মুদি দোকান, আসবাবপত্রের দোকানসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
সংসদে লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। বিরোধী জোটের জারলুন আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল গনি আহমদের মালয়েশিয়ার কৃষি, খামার ও মুদি দোকান পরিচালনাসহ বিভিন্ন খাতে বিদেশি নাগরিক এবং অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন বিশেষ অভিযানে মোট ২ হাজার ৬৪৪টি অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এসব অভিযানে ১৯ হাজার ১৯২ জনকে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ১৬৮ জন অবৈধ অভিবাসী এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২৯৯ জন নিয়োগকর্তাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি, তল্লাশি ও আইন মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অভিবাসন বিভাগের পরিদর্শন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে এ ধরনের ১১ হাজার ৭৯০টি পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশনের সঙ্গে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে অভিবাসন আইন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিজ নিজ এখতিয়ার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সময়ে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে ৬৮৫টি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন স্থানে সার্বক্ষণিক দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ এবং বিদেশি নাগরিকদের বেআইনিভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধ করা।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়িয়ে দেশজুড়ে ধারাবাহিক, কার্যকর ও সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন বিভাগ।