প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৬ (বুধবার)
হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে পাশে থাকবে ইরান

রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইরান। বাংলাদেশের সঙ্গে আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে এ সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব হামলার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

বাংলাদেশের জনগণকে ‘মুসলিম ভাই-বোন’ উল্লেখ করে বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে তাঁদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। তবে সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহযোগিতা করবে ইরান।

ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের জনগণের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করে জালিল রাহিমি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের মনোভাব ও সমর্থনে তাঁরা খুশি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, তাদের সঙ্গে সমঝোতার অর্থ আত্মসমর্পণ, যা ইরান কখনো মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কোনো ধরনের হামলা চালালে পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত। তবে তেহরান নিজে থেকে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না।

মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরান কোনো আক্রমণ চালাবে না।

পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত পশ্চিমা হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্ব ইরানের ইসলামি বিপ্লবেরও আগের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইয়েমেনের হুথি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির প্রতি ইরানের শক্তিশালী রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন রয়েছে।