ছবি: সংগৃহীত
পৈতৃক সম্পত্তির অবস্থান ও পরিমাণ সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। বিশেষ করে শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ব্যক্তিদের পক্ষে গ্রামের জমিজমার খোঁজখবর রাখা কঠিন। ফলে অনেক সময় পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া জমি সম্পর্কে অজানা থেকে যায় উত্তরাধিকারীরা। এমনকি দীর্ঘদিন খোঁজখবর না রাখার সুযোগে এসব জমি অন্যের দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
তবে এখন আর জমির খোঁজ নিতে বারবার ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারের ই-পর্চা (e-Porcha) অনলাইন সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই বাবা, দাদা, নানা কিংবা অন্য পূর্বপুরুষদের নামে থাকা জমির খতিয়ান খুঁজে বের করা সম্ভব।
মোবাইল ফোন, কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহার করে অনলাইনে এই সেবা নেওয়া যায়। জমির প্রয়োজনীয় তথ্য জানা থাকলে কয়েক মিনিটেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব সংশ্লিষ্ট খতিয়ান।
যেভাবে খুঁজবেন পূর্বপুরুষদের জমির তথ্য
জমির খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য প্রথমে প্রবেশ করতে হবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-পর্চা ওয়েবসাইটে। ঠিকানা: www.eporcha.gov.bd।
এরপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে-
১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ: গুগলে ‘ই-পর্চা’ লিখে অনুসন্ধান করুন। অথবা সরাসরি www.eporcha.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. খতিয়ান অনুসন্ধান: ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর ‘খতিয়ান অনুসন্ধান’ অপশনে ক্লিক করুন।
৩. জমির অবস্থান নির্বাচন: এরপর পর্যায়ক্রমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার নাম নির্বাচন করতে হবে। জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেই এলাকার তথ্য দিতে হবে।
৪. খতিয়ানের ধরন নির্বাচন: এবার প্রয়োজন অনুযায়ী সিএস (CS), এসএ (SA), আরএস (RS) অথবা বিএস (BS) খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করুন। প্রতিটি ধরন আলাদাভাবে অনুসন্ধান করতে হবে।
৫. মালিকের তথ্য দেওয়া: খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা জমির মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বাবা, দাদা, নানা-নানী কিংবা অন্য পূর্বপুরুষের নাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
৬. অনুসন্ধান সম্পন্ন: প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ক্যাপচা কোড পূরণ করে ‘অনুসন্ধান’ বাটনে ক্লিক করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ানের তথ্য দেখতে পাবেন।
৭. খতিয়ানের কপি সংগ্রহ: প্রয়োজন হলে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেই খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করা যাবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা
একসময় জমির মালিকানা বা খতিয়ানের তথ্য জানতে ভূমি অফিসে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। ই-পর্চা সেবার ফলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। এখন ঘরে বসেই জমির রেকর্ড অনুসন্ধান এবং খতিয়ানের কপির জন্য আবেদন করা যাচ্ছে।
তবে শুধু পূর্বপুরুষের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করলেই সব জমির তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সঠিক মৌজা, খতিয়ানের ধরন এবং মালিকের নাম জানা থাকলে অনুসন্ধান সহজ হয়। একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকলে খতিয়ান ও দাগ নম্বর মিলিয়ে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
মনে রাখতে হবে, খতিয়ানে নাম থাকা মানেই বর্তমান মালিকানা বা জমির দখল নিশ্চিত হওয়া নয়। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার কিংবা মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দলিল, নামজারি ও অন্যান্য ভূমি রেকর্ডও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
তাই আপনার বাবা, দাদা কিংবা অন্য পূর্বপুরুষদের নামে কোথায় কতটুকু জমি রয়েছে, তা জানতে আজই ঘরে বসে ব্যবহার করতে পারেন সরকারের ই-পর্চা সেবা।