প্রকাশিত : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:২৭ (শুক্রবার)
সিলেটের মাঠে দ্বিতীয় দিনের সকালটি হোক বাংলাদেশের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত

শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। মেঘলা আকাশ, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ আর পেসারদের অনুকূলে থাকা উইকেট; সবকিছুই যেন বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। মাত্র ২৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। কিন্তু সেই আলোর পথ ধরেই শেষ পর্যন্ত এগোতে পারেনি বাংলাদেশ। আমির জাঙ্গু ও কেভিন উইকহ্যামের প্রতিরোধে বদলে গেছে দিনের চিত্র। প্রথম দিনের খেলা শেষে তাই স্বস্তিতে ক্যারিবীয়রা, আর নতুন দিনের অপেক্ষায় কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে বাংলাদেশ।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৭০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আমির জাঙ্গু ১১১ এবং জাস্টিন গ্রিভস ৩৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন। দ্বিতীয় দিনের সকালে এই দুজনই বাংলাদেশের বোলারদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এখন বাংলাদেশের সামনে প্রথম ও প্রধান কাজ-জাঙ্গু ও গ্রিভসের জুটি ভাঙা। টেস্ট ক্রিকেটে একটি জুটি কখনো শুধু রান যোগ করে না, প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাসেও চিড় ধরায়। জাঙ্গু ইতোমধ্যে সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তাঁকে দ্রুত ফিরিয়ে দিতে না পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ কোথায় গিয়ে থামবে, তা অনুমান করাও কঠিন। অন্যদিকে গ্রিভসও ক্রিজে থিতু হয়েছেন। এই জুটি যত দীর্ঘ হবে, বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনের পথ তত কঠিন হয়ে উঠবে।

তাসকিন ও হাসানের হাতেই আবারও বড় দায়িত্ব। প্রথম দিনের শুরুর স্পেলে যে আগুন ঝরিয়েছিলেন তাঁরা, দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সেই ধার ফিরিয়ে আনতে হবে। নতুন বলে লাইন-লেংথ ঠিক রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এবং উইকেটের সুযোগ তৈরি করাই হবে তাঁদের প্রধান কাজ। তবে শুধু পেসারদের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের স্পিন আক্রমণকেও জ্বলে উঠতে হবে। প্রথম দিন তিন স্পিনার মিলে কোনো উইকেট পাননি। দ্বিতীয় দিন তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ।

বাংলাদেশের জন্য এই টেস্টের গুরুত্বও কম নয়। মিরপুরে প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটে হেরে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকেরা। ফলে সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানো শুধু একটি ম্যাচ জয়ের লড়াই নয়, সিরিজে সমতা ফেরানোরও শেষ সুযোগ। সেই লক্ষ্য পূরণে দ্বিতীয় দিনের প্রতিটি ওভার, প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি রান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বল হাতে ক্যারিবীয়দের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে আনার পর ব্যাট হাতেও দায়িত্বশীল হতে হবে বাংলাদেশকে। বড় সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষের রানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে না পারলে ম্যাচে ফেরার পথ আরও সংকুচিত হবে। ব্যাটসম্যানদের সামনে তাই থাকবে ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও লড়াকু মানসিকতার পরীক্ষা।

প্রথম দিনের গল্পে বাংলাদেশ পেয়েছিল দারুণ এক সূচনা, কিন্তু শেষটা হয়েছে আক্ষেপে। ক্রিকেটে ভালো শুরুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কখনো কখনো সেই শুরু ধরে রাখার সামর্থ্য। দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশ সেই সামর্থ্যেরই পরীক্ষা দেবে। জাঙ্গু-গ্রিভস জুটি ভেঙে নতুন করে লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ এখনো আছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক সময়ে সঠিক আঘাত।

সিলেটের মাঠে তাই দ্বিতীয় দিনের সকালটি বাংলাদেশের জন্য কেবল নতুন দিনের শুরু নয়, ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন প্রতিশ্রুতিও। প্রশ্ন এখন একটাই; প্রথম দিনের হারানো নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়ে শান্তর দল কি আবারও ম্যাচে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে?