প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৮:৩৬ (শুক্রবার)
নিরাপত্তা শঙ্কায় শেনজেন সীমান্তে ১১ মে পর্যন্ত নিরাপত্তা বাড়াল সুইডেন

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য নাশকতা ও বিদেশি শক্তির ক্ষতিকর তৎপরতার আশঙ্কায় শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও ছয় মাসের জন্য বাড়িয়েছে সুইডেন সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১১ মে পর্যন্ত এ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। এর ফলে ডেনমার্ক, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডসহ শেনজেনভুক্ত দেশগুলো থেকে সুইডেনে প্রবেশের ক্ষেত্রে যাত্রীদের পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি যাচাই করা হতে পারে। সেজন্য বাংলাদেশীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে রাখাতে হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সুইডেনের বিচার মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সরকারের ভাষ্য, জনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর গুরুতর হুমকি থাকায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের পর ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে শেনজেন অঞ্চলে হাইব্রিড হামলা, বিদেশি রাষ্ট্রসমর্থিত তৎপরতা এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছে সুইডিশ সরকার। বিশেষ করে শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অবাধ চলাচল দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সুইডেনের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রচলিত আইন মেনেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ জোরদার থাকলে পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত করতে পারবে। একই সঙ্গে অপরাধ, নাশকতা এবং বিদেশি শক্তির ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও এ ব্যবস্থা সহায়ক হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, সুইডেন শেনজেন অঞ্চলের সদস্য হওয়ায় সাধারণ পরিস্থিতিতে অন্য শেনজেনভুক্ত দেশ থেকে দেশটিতে প্রবেশের সময় নিয়মিত পাসপোর্ট পরীক্ষা করা হয় না। তবে বিশেষ নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধান অনুযায়ী সদস্যদেশগুলো সাময়িকভাবে অভ্যন্তরীণ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ চালু করতে পারে। ২০১৫ সাল থেকেই বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে সুইডেন।

আগের ছয় মাসের নিয়ন্ত্রণের মেয়াদ আগামী ১১ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আরও ছয় মাসের জন্য এ ব্যবস্থার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় সড়ক, রেলপথ, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরে প্রয়োজন অনুযায়ী যাত্রীদের পরিচয় এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা হতে পারে। বিশেষ করে ডেনমার্ক, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড থেকে সুইডেনে প্রবেশকারীদের এ ধরনের যাচাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সব সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে না, কিংবা প্রত্যেক যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা করা হবে-বিষয়টি এমন নয়। কোথায়, কখন এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারণ করবে সুইডিশ পুলিশ।