প্রকাশিত : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০১:২৩ (রবিবার)
সৌদির সড়কে নিভে গেল তিন পরিবারের সাত প্রাণ, সবাই কক্সবাজারের

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা থেকে জেদ্দায় ফিরছিলেন তাঁরা। হয়তো পথজুড়ে ছিল একসঙ্গে কাটানো সময়ের গল্প, পরিবারের হাসি-আনন্দ আর ঘরে ফেরার স্বপ্ন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না।

ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই কেড়ে নিল সাতটি প্রাণ। আহত হলেন আরও ছয়জন। নিহতদের সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, একই জেলার-কক্সবাজারের তিন পরিবারের সদস্য।

শুক্রবার রাতে সৌদি আরবের আল-হিমনা এলাকায় ঘটে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত সাতজনের মধ্যে একই পরিবারের চারজন এবং অপর দুই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।

একসঙ্গে এতগুলো প্রাণ হারানোর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজনদের মধ্যে। নিহতদের একজন জিয়াউর রহমান। তাঁর সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন মেয়ে বুশরা এবং দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী শাকিরা। তাঁকে খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের আরেক মেয়েকে নেওয়া হয়েছে জেদ্দার বাদশা আবদুল আজিজ হাসপাতালে। এক দুর্ঘটনায় পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে স্বজনদের জীবনে নেমে এসেছে অপূরণীয় শূন্যতা।

অন্য একটি পরিবারের আলম শাহের স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়ারও ফিরলেন না ঘরে। তাঁদের মরদেহ রাখা হয়েছে যথাক্রমে আল-হিমনা ও খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আলম শাহের ছেলে ফায়সাল। তাঁকে ইস্ট জেদ্দা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আলম শাহ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আফসানা বিবি। কয়েক দিন আগেই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই পবিত্র সফরই হয়ে উঠল তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা। তাঁর স্বামী ইলিয়াসও দুর্ঘটনায় আহত হন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি হাসপাতাল ছেড়েছেন।

এ ঘটনায় আহত অপর বাংলাদেশি গফুর আলমকে খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেট ও খোলাইস ট্রাফিক অফিসের বরাতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন পাকিস্তানের এক নাগরিক। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। সৌদি ট্রাফিক পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উল্টে যায়।

তবে চালকের দাবি, গাড়ির চাকা ফেটে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ সৌদির বিভিন্ন হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহতরা চিকিৎসাধীন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও এখন স্বজনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রবাসের মাটিতে জীবিকার প্রয়োজনে কিংবা পবিত্র ওমরাহ পালনে যাওয়া মানুষগুলো আর কখনো ফিরবেন না আপন ঠিকানায়। কারও ঘর থেকে হারিয়ে গেলেন বাবা, কারও মা, কারও ভাইবোন।