প্রকাশিত : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:০৬ (রবিবার)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাফনের কাপড় মাথায় সড়ক-রেলপথ অবরোধ, বন্ধ সিলেটের ট্রেন চলাচল

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ছয়টি গ্রাম পুনর্বহাল এবং উপজেলা বিভক্তির প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় এ অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম—কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল নিয়ে নতুন বরিশল ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করে তা আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে ওই বছরের ৪ জুন গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু থেকেই আন্দোলন করে আসছেন বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তবে তাদের দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এরই মধ্যে সদর উপজেলার বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল—এই তিনটি ইউনিয়ন ভেঙে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়া বরিশল ইউনিয়নের আওতায় এনে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা বিএনপি নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভ আরও বাড়ে।

এর প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা কোড্ডা কেবিন এলাকায় রেলপথ এবং আখাউড়া স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনকারীরা মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে তাদের দাবি আদায়ে স্লোগান দেন।

অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পারাবত, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর ও সুবর্ণ এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেনের চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, অবরোধের কারণে সিলেটগামী আন্তনগর পারাবত এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে অবস্থান করছে। এছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে কক্সবাজারগামী বিরতিহীন আন্তনগর পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটিকেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করতে হচ্ছে।

এদিকে অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।

স্থানীয়দের দাবি, ছয়টি গ্রামকে পুনরায় বাসুদেব ইউনিয়নে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।