প্রকাশিত : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৪ (রবিবার)
ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম আগের অবস্থানে পুনর্বহালের দাবিতে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন ও তিতাস সেতু এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে আখাউড়া-আগরতলা সড়ক অবরোধ করায় ভারতগামী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে পড়েছে।

অবরোধের কারণে পারাবত, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও উপকূল এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী নিয়ে ট্রেনগুলো বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, অবরোধের কারণে সিলেটগামী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে অবস্থান করছে। নিরাপত্তার কারণে কক্সবাজারগামী বিরতিহীন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটিও সেখানে অবস্থান করবে।

অবরোধকারীরা জানান, তাঁরা নতুন কোনো ইউনিয়ন চান না। বাসুদেব ইউনিয়নকে অখণ্ড রেখে কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল গ্রামকে আগের মতো একই ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্থানীয় মানুষের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ছয়টি গ্রাম আলাদা করে বরিশল নামে নতুন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। পরে ইউনিয়নটিকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে গত ৪ জুন গেজেট প্রকাশিত হয়। শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন তাঁরা। তবে দীর্ঘদিনেও দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি।

এর মধ্যে সম্প্রতি সদর উপজেলার বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়ন ভেঙে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়া বরিশল ইউনিয়নের আওতায় এনে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা বিএনপি নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে।

বিক্ষোভে জাহাঙ্গীর আলম, জসিম উদ্দিন শিপন, আব্দুল বাছির ও মামুন পাঠানসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন একই ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে অবরোধস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছে।

সম্পাদনা নোট: প্রথম বর্ণনায় অবরোধের স্থান হিসেবে কোড্ডা কেবিনের কথা থাকলেও দ্বিতীয় বর্ণনায় তিতাস সেতুর কথাও এসেছে। তাই দুটিই রাখা হয়েছে। কবির আহমেদ ভূঁইয়ার নামের পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে ট্রেন চলাচল কখন স্বাভাবিক হয়েছে, তা সরবরাহ করা তথ্যে নেই।