প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০২৫ ১৭:১৯ (শনিবার)
বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধ*র্ষণের ঘটনায় রহস্য উদঘাটিত, তিন ধ*র্ষক গ্রেফতার

ছবি: সংগ্রহ

কানাইঘাটে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী (১৬) অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পলাতক তৃতীয় ধর্ষককেও গ্রেফতার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ। এ নিয়ে মামলার তিন আসামীকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা দায়েরের একদিনের মাথায় তদন্ত কর্মকর্তা মামলার সমোদয় রহস্য উদ্ঘাটন করতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল নিজেই এ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনি জানান, এ ধর্ষণের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনার ভিকটিম (১৬) বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ধর্ষক তিনজনই পরিবহন শ্রমিক। এর মধ্যে বাবুল আহমদ (২৮) দীর্ঘদিন ধরে বাকপ্রতিবন্ধী ভিকটিমকে নজরে রাখছিল। ঘটনার দিন রাতে বাকপ্রতিবন্ধী ভিকটিম পরিবারের অগোচরে ঘর থেকে বেরিয়ে গাজী বুরহান উদ্দিন রাস্তায় চলে আসে। এ সুযোগে বাবুল আহমদ (২৮) ভিকটিমকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। তখন সে শুভংকর দাস (২৭) কে গাড়ি নিয়ে কচুপাড়া রাস্তায় আসতে বলে। একই সময় সে তৃতীয় ব্যক্তি ফাহাদ মিয়া (২৫) কেও আসতে বলে।

১০ মিনিটের মধ্যে শুভংকর নোহা গাড়ি নিয়ে কচুপাড়ায় অপহরণস্থলে আসলে বাবুল আহমদ (২৮) ও ফাহাদ মিয়া (২৫) বাকপ্রতিবন্ধী ভিকটিমকে জোর করে নোহা গাড়িতে তুলে গাজী বুরহান উদ্দিন রাস্তা ধরে কায়স্তগ্রাম বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তিনজন মিলে ভিকটিমকে রাতভর ধর্ষণ করে। ভোরের আলো ফুটে ওঠার আগে তারা ভিকটিমকে বালুর মাঠে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সকালে কায়স্তগ্রামের লোকজন আহত অবস্থায় ভিকটিমকে পেয়ে নিজেদের জিম্মায় রেখে ভিকটিমের পরিবারকে খবর দেয়। ভিকটিমের পরিবার সকাল ৯টার দিকে গিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী ভিকটিমকে শনাক্ত করে এবং তাকে আহত ও অসুস্থ অবস্থায় সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে।

এরপর গতকাল (৩ জুলাই) ভিকটিমের মা কানাইঘাট থানায় এসে অভিযোগটি লিখিত আকারে দাখিল করেন, যা এফআইআর করা হয়। (কানাইঘাট থানার মামলা নম্বর-০১, তারিখ-০৪/০৭/২০২৫ ইং, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৭/৯(৩) ধারা)।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের গ্রেফতারে নামে। আজ ৪ জুলাই ভোর রাত পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন ধর্ষককে ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই এই অপহরণ ও ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

তবে অপহরণের ঘটনায় ব্যবহৃত নোহা গাড়িটি এখনো জব্দ করা হয়নি বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল আউয়াল। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই তিনি অপহরণে ব্যবহৃত নোহা গাড়িটি জব্দ করতে সক্ষম হবেন। আপাতত এতেই এ মামলার তদন্ত কাজ শেষ হবে। শুধুমাত্র ডাক্তারি পরীক্ষা ও ডিএনএ রিপোর্ট পেলেই তিনি এ মামলার তদন্ত রিপোর্ট দিতে পারবেন বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার এজাহারে আসামিরা হলো:(১) শুভংকর দাস (২৭), পিতা - মৃত নিখিল দাস, সাং - উমাগড়, (২) বাবুল আহমদ (২৮),পিতা - ফরিদ আহমদ, সাং - বীরদল কচুপাড়া, (৩) ফাহাদ মিয়া (২৫), পিতা - বাবুল মিয়া, সাং - চটিগ্রাম। তিনজনই কানাইঘাট থানার বাসিন্দা। তাদেরকে আজ শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।