প্রকাশিত : ০৯ জুলাই, ২০২৫ ০২:৩৪ (বৃহস্পতিবার)
বিএনপির আহবায়ক সহ ১১ জন গ্রেফতার

সোমবারের সংঘর্ষের ধ্বংসযজ্ঞ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দুই সাংবাদিকের বিরোধের জেরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পৌর বিএনপির আহবায়ক সহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে পৌর এলাকার নবীগঞ্জ বাজারে ব্যাপক সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের এম্বুলেন্স চালক ফারুক মিয়া (৪২) ও আনমনু গ্রামের রিমন মিয়া (২৫)। আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি।

সংঘর্ষে নবীগঞ্জ বাজারের বহু দোকান, যানবাহন, বেসরকারি হাসপাতাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে পুরো বাজার জনশূন্য হয়ে পড়ে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গ্রামগুলোতেও।

জানা যায়, দুই সাংবাদিকের ব্যক্তিগত বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটুক্তির পর্যায়ে পৌঁছালে তাদের সমর্থনে দুটি গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়ায়। পরবর্তীতে এক পক্ষের পক্ষে মৎস্যজীবী সম্প্রদায় ও অন্য পক্ষের পক্ষে অমৎস্যজীবীরা অবস্থান নেয়, যা সংঘর্ষকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেয়।

অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। নবীগঞ্জ শহরে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং দাঙ্গায় জড়িত সন্দেহে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ছালিক মিয়াসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. কামরুজ্জামান জানান, নিহত ফারুকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে সংঘাতে জড়িত থাকার প্রমান পাওয়ায় ১১ জনকে গ্রেফতসর করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে নবীগঞ্জে  ৯ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বর্ধিত করা হয়েছে।

বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, বাজার ও হাটগুলোতে বন্ধ রয়েছে সব কার্যক্রম। নবীগঞ্জ পৌরসদরে স্থানে স্থানে সংঘর্ষের ধ্বংসযজ্ঞ এখনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা চরমে রয়েছে।