প্রকাশিত : ১০ জুলাই, ২০২৫ ১১:৩৬ (বৃহস্পতিবার)
নবীগঞ্জে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের পথে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় আশাবাদী স্থানীয়রা

ছবি: সংগ্রহ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর দুইদিন ধরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করলেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে শহর ও আশপাশের গ্রামগুলো। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) রাত পর্যন্ত জারি থাকা ১৪৪ ধারা শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খুলেছে দোকানপাট, ফিরে আসছে স্বাভাবিক জনজীবন। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে যৌথবাহিনীর টহল এখনো অব্যাহত রয়েছে ।
এদিকে সংঘর্ষের পর শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সমঝোতার লক্ষ্যে  বুধবার বিকেলে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজার হাফিজিয়া সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হয় এক গুরুত্বপূর্ণ সালিশি বৈঠক। দুই পক্ষের সম্মতিতে বৈঠকে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি সালিশ কমিটি গঠন করা হয়। 
নবীগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ মনসুর আলী খানকে আহ্বায়ক এবং মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা নুরুল হক, অ্যাডভোকেট আবুল ফজল, মাওলানা ফয়ছল আহমদ তালুকদার ও সরফরাজ আহমদ চৌধুরীকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সৈয়দ খালেদুর রহমান খালেদকে সদস্য সচিব করা হয়।
যদিও এখনো পর্যন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ সদস্যদের নাম পাওয়া যায়নি, তবুও কমিটির সদস্যরা দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষের আশা নবীগঞ্জ শান্ত হবে।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা একপর্যায়ে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে তা মৎস্যজীবী ও অমৎস্যজীবী দুই সম্প্রদায়ের বিরোধে গড়ায়। ৭ জুলাই সোমবার নবীগঞ্জ বাজারে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে প্রাণ হারান অ্যাম্বুলেন্সচালক ফারুক মিয়া এবং আহত হন শতাধিক ব্যক্তি। এই ঘটনায় বাজারের শতাধিক দোকান, যানবাহন ও একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সাম্প্রতিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। যৌথবাহিনী এ পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করেছে। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সালিশি কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনার যে প্রয়াস চলছে, তাতে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন নবীগঞ্জের সাধারণ মানুষ। তারা আশা করছেন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে সালিশ বোর্ড দীর্ঘদিনের বিভেদ অবসান করে এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।