প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২৫ ০২:০১ (বৃহস্পতিবার)
তারা ১২ জন, সবার থেকে আলাদা

ছবি: বাসস

পরিচয়হীনতা, পরিবারহীনতা কিংবা শৈশবের নির্মমতা - সব কিছু জয় করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেছে ১২ কিশোর।

জন্মপরিচয় ভুলে যাওয়া কিংবা পরিবার থেকে হারিয়ে যাওয়া এই শিশুরা বেড়ে উঠেছে পঞ্চগড়ের আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার তারা সফলভাবে এসএসসি পাস করেছে।

এসব কিশোরের কারও বাবা-মায়ের নাম মনে নেই, কারও শুধু বাবার নাম মনে আছে, কেউ জানেই না তার ঠিকানা কোথায়। কিশোরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ কিংবা লালমনিরহাট-কোথাও না কোথাও তাদের জন্ম হলেও আজ তারা একক পরিচয়ের মানুষ: আহছানিয়া শিশু নগরীর ছাত্র।

জিপিএ-৪.৯৬ পেয়েছেন কবির হোসেন হৃদয়। মাত্র ৫ বছর বয়সে রেলস্টেশনে পথশিশুতে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। বাবার সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া সুজন, মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ঘর ছাড়া হৃদয় কিংবা পরিচয়হীন সাব্বির—প্রত্যেকের গল্পই হৃদয়বিদারক। তবু তারা হার মানেনি।

পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় তারা।

আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীর সেন্টার ম্যানেজার দীপক কুমার রায় বলেন, ‘অন্ধকারে পা বাড়ানো শিশুদের আলোর পথে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই এই প্রতিষ্ঠান। এবার ১২ জন পরীক্ষার্থী সবাই ভালো ফল করেছে, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।’

শিশু নগরীর কৃষি কর্মকর্তা সেলিম প্রধান বলেন, ‘এখানে আশ্রয় পাওয়া অধিকাংশ শিশুই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে আমরা চেষ্টা করি তাদের পরিবারমুখী ভালোবাসা আর সুরক্ষা দিতে। পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষাও দিচ্ছি, যেন তারা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।’

শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম জানান, এখানকার সব শিশুকে প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত পড়ানো হয়। এরপর স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়। সদ্য এসএসসি পাস করা ১২ জনও এখান থেকেই শিখে বড় হয়েছে।