প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২৫ ১৪:১২ (বৃহস্পতিবার)
২১ জেলায় ডুবেছে ৭২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি

ছবি: সংগ্রহ

টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। এর ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি খাত। খাগড়াছড়ির মাইনী নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে প্লাবিত হয়েছে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের হেডকোয়ার্টার এলাকা ও আশপাশের বসতি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই বর্ষণে দেশের ২১ জেলার ৭২ হাজার ৭৬ হেক্টর ফসলি জমি ডুবে গেছে। এতে মাঠের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হওয়া ফসলের তালিকায় রয়েছে আউশ, আমন বীজতলা, বোনা আমন, পাট, শাকসবজি, কলা, পেঁপে, মরিচ, পান ও গ্রীষ্মকালীন তরমুজ।

ক্ষতির হিসেবে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা জেলা, যেখানে একাই পানির নিচে গেছে ১১ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমির ফসল। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী (৭,৮০৬ হেক্টর) এবং তৃতীয় ফেনী (১,৬৫৫ হেক্টর)।

ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের বিবরণ (হেক্টরে): আউশ: ৪৪,৬৬২, আমন বীজতলা: ১৪,৩৯৩, বোনা আমন: ২৯৭, শাকসবজি: ৯,৬৭৩, পাট: ১৩৫, কলা: ১১৪, পেঁপে: ২৯৩, পান: ৩৮৭, মরিচ: ১০৪, গ্রীষ্মকালীন তরমুজ: ২৮১।
ক্ষতিগ্রস্ত ২১ জেলা:, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি, পাবনা, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা এবং শরীয়তপুর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মীরা কাজ করছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নতুন নতুন এলাকা আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
কৃষি নির্ভর এ দেশে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু কৃষকের ঘরে নয়, পুরো অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে দ্রুত পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।