প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৫ ১৫:৪৩ (বৃহস্পতিবার)
গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা, ১৪৪ ধারা জারি

ছবি: সংগৃহিত।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুলিশের গাড়িতে আগুন, ইউএনওর গাড়িতে হামলা এবং সমাবেশস্থলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন একাধিক পুলিশ সদস্য এবং একজন গাড়িচালক। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ শেষে তাদের ঘিরে হামলার ঘটনার পর গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো.কামরুজ্জামান গোপালগঞ্জ জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  এনসিপির সমাবেশ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে নেতা-কর্মীদের ঘিরে হামলা চালান। তাঁরা চারদিক থেকে এনসিপির নেতা-কর্মী ও পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এনসিপির নেতা-কর্মীরা অন্য দিক দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

সমাবেশস্থলে হামলা ও ভাঙচুর
বেলা পৌনে দুইটার দিকে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে এনসিপির সমাবেশস্থলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২০০ থেকে ৩০০ জন লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে হামলাকারীরা সমাবেশস্থলে এসে মঞ্চ ও চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।
হামলার সময় আশপাশে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা আদালত চত্বরে আশ্রয় নেন। একই সঙ্গে এনসিপির নেতা-কর্মীরাও দৌড়ে সরে পড়েন। পরে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় এনসিপির নেতা-কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি
হামলার পরপরই বেলা ২টা ৫ মিনিটে সমাবেশস্থলে পৌঁছান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। বেলা সোয়া দুইটার দিকে তাঁরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন।

আগুন ও হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত সকাল
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কের খাটিয়াগড় চরপাড়ায় এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও এম রাকিবুল হাসান।
পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কংশুরে ইউএনওর গাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলায় গাড়ির চালক মোহাম্মদ হামিম আহত হন।
ইউএনও এম রাকিবুল হাসান বলেন, ‘এনসিপির পদযাত্রা কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে আমরা এলাকা পরিদর্শনে যাই। ফেরার পথে কংশুরে একদল লোক আমাদের গাড়িতে হামলা করে।’

মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’
জাতীয় নাগরিক পার্টি ১ জুলাই থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শীর্ষক মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার ছিল ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির দিন। মঙ্গলবার রাতে দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
এনসিপি দাবি করেছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের চেষ্টা চললেও আওয়ামীলীগ সমর্থকরা তাদের কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। 
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে। এ সময় পুলিশ-সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
তাদের বলা হয়েছিল, সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু তাঁরা সমাবেশস্থলে এসে দেখেন পরিস্থিতি ঠিক নেই।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো.কামরুজ্জামান গোপালগঞ্জ জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।