ছবি: সংগ্রহ
শোকস্তব্ধ মা রোকসানা বেগম। চোখে অশ্রু নেই, কিন্তু মুখে অন্য কোনো শব্দও নেই, শুধু একটাই কথা-‘আমার সংসার বাঁচাবার মতো আর কেউ নাই। শোক যেন তাঁকে পাথর করে দিয়েছে।
কান্নায় ভারী হয়ে আছে চারদিক। যে ছেলেটি ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা, সেই ইমন তালুকদার আর নেই।
গতকাল বুধবার গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত হন ১৭ বছর বয়সী ইমন।
ইমনের মামাতো ভাই রানা ভূঁইয়া জানান, ‘আমার ভাই প্রাণভিক্ষা চেয়েছিল, তারপরও তাকে মেরে ফেলা হলো। আমরা ভিডিওতে দেখেছি, কীভাবে গুলি করার পরও ধরে মেরে ফেলা হয়েছে। এটা কোনোভাবে সহ্য করা যায় না।’
, ইমন ছিল তিন ভাই-বোনের মধ্যে অন্যতম উপার্জনক্ষম। বড় ভাই অসুস্থ, বাবা মাঝে মাঝে শারীরিক সমস্যার মাঝেও ভ্যান চালাতেন। সংসারের দায়িত্ব ইমনই কাঁধে তুলে নিয়েছিল। ছোট ভাইবোনের পড়াশোনার খরচ, বাসার খরচ-সব কিছুতেই সে ছিল মায়ের ভরসা। আজ সেই ছেলেটাই নেই।
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন। এমনকি ছেলের জানাজাতেও ছিলেন না। বাড়ি ছেড়ে কোথায় যেন চলে গেছেন,কারও জানা নেই।
স্থানীয়রা জানান, ইমন কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন না। সে শুধু সমাবেশ দেখতে গিয়েছিল। কারো সঙ্গে তার বিরোধ ছিল না, কোনো সহিংসতাতেও সে জড়িত ছিল না। তবুও প্রাণ গেল তার।
গোপালগঞ্জে গতকালের সংঘর্ষে ইমনসহ চারজন নিহত হন। নিহতদের পরিবারে বইছে শোকের মাতম। প্রশ্ন উঠছে, কেন এমন প্রাণহানি? কার দায়ে এই মৃত্যু?