প্রকাশিত : ১৭ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৫৪ (বৃহস্পতিবার)
সুখবরের নামে ‘শব্দ সন্ত্রাসে’অতিষ্ঠ বিয়ানীবাজার পৌরবাসী

ছবি: সংগৃহিত।

‘সুখবর, সুখবর, সুখবর!’-এই শব্দ এখন আর আনন্দের বার্তা নয়, বরং বিরক্তি আর হতাশার কারণ হয়ে উঠেছে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের মানুষের কাছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা মাইকিংয়ের উচ্চ শব্দে বাসাবাড়িতে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শহরের বাসিন্দারা।
ফার্মেসি ব্যবসায়ী আবুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘সুখবর’শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। এটা এক ধরনের শব্দ সন্ত্রাস।
শুধু আবুল হাসান নন, শহরের অন্যান্য বাসিন্দারাও বলছেন, নিয়ম-নীতি না মেনে অতিরিক্ত শব্দে প্রতিনিয়ত মাইকিং করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সরকারি অফিস এমনকি আবাসিক এলাকাতেও চলতে থাকে এই মাইকিং। ফলে জনজীবন হয়ে উঠেছে বিপর্যস্ত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পণ্য ও সেবার প্রচারের জন্য উচ্চ শব্দে মাইকিং করছেন। এর মধ্যে রয়েছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডাক্তারদের বিজ্ঞাপন, গরু-মহিষ জবাইয়ের ঘোষণা, ঢাকাগামী বাসের সার্ভিস, মাছ ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর অফার ইত্যাদি।
শহরের ভুষিমাল ব্যবসায়ী জয়নাল উদ্দিন বলেন, ‘দোকানে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাইকের শব্দে ক্রেতাদের সঙ্গে বা ফোনে স্বাভাবিক কথাবার্তাও বলা যায় না।’
শিক্ষার্থী তাহসান সারিম বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময় ছাড়াই প্রতিদিন উচ্চ শব্দে মাইকিং চলছে। এতে আমাদের পড়ালেখায় সমস্যা হয়। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।’
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শব্দের সহনীয় মাত্রা ৪৫ ডেসিবেল হলেও বিয়ানীবাজারে মাইকিংয়ের শব্দ প্রায় ৭০ ডেসিবেলের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্রবণ সমস্যার পাশাপাশি শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে স্থানীয় চিকিৎসক ডা. রাজিব গোষামী (এমবিবিএস) বলেন, ‘অতিমাত্রায় শব্দদূষণ পৌরবাসীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে। এর ফলে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে।’
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক গোলাম মুস্তাফা মুন্না বলেন, ‘মাইকিংয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা উচিত। এ ব্যাপারে সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কেবল আইন করেই এ সমস্যার সমাধান হবে না, বরং মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করাই জরুরি।’