প্রকাশিত : ২৮ জুলাই, ২০২৫ ০৯:৩৮ (মঙ্গলবার)
রাজশাহীতে সাপের আতঙ্ক: এক মাসেই ৩০০ সাপ হ.ত্যা

ছবি: সংগৃহিত।

রাজশাহীর চর ও গ্রামাঞ্চলে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এতে আতঙ্কিত হয়ে নির্বিচারে পিটিয়ে মারা হচ্ছে বিষধর ও নির্বিষ সাপ। চলতি জুলাই মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩০০টির বেশি সাপ মেরে ফেলা হয়েছে। একই সময় জীবিত ও আহত অবস্থায় ২৫০টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্নেক রেসকিউ অ্যান্ড কনজারভেশন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা বোরহান বিশ্বাস।

তিনি বলেন, মারা পড়া সাপের মধ্যে রয়েছে গোখরা ও দাড়াশ। সাপ সবসময় ক্ষতিকর নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনেক উপকারী। কিন্তু না জেনে আতঙ্কে মানুষ নির্বিষ সাপও মেরে ফেলছে।
পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে সাপের আনাগোনা তুলনামূলক বেশি। এর মধ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সাপের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। এরপর চারঘাট ও বাঘা এবং পরে পবা ও বাগমারা উপজেলায় কিছু রেসকিউ কল এসেছে। এক মাসে রেসকিউ টিম ২০টি রাসেল ভাইপার উদ্ধার করেছে, যার অধিকাংশই আহত। গোখরা সাপের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

চলতি মাসের ২ জুলাই রাজশাহীর তানোর উপজেলায় সাপের কামড়ে মারা যান ইসমাইল হোসেন (৩৮)। তিনি উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। জমি থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাপের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র জানান, ইসমাইলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। স্বজনদের দাবি, তাকে রাসেল ভাইপার সাপে কামড়েছে, যদিও প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

পদ্মা নদীর পানি বাড়ার ফলে চরাঞ্চলে সাপের চলাচল বেড়েছে। আজিম নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘বিকেলের পর থেকেই আতঙ্কে থাকতে হয়। চরে জালে পড়ে বেশ কিছু সাপ ধরা পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ না জেনে সব সাপকে ভয় পায়। অথচ ১০৩ প্রজাতির সাপের মধ্যে ৭৫ প্রজাতিই নির্বিষ। মাত্র ২৫টি প্রজাতি বিষধর। তাদের মধ্যেও সব জায়গায় দেখা মেলে না।’

বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘সাপ কৃষকের বন্ধু। সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণে রাখে। মানুষকে সচেতন হতে হবে, সব সাপ বিষধর নয়।’