প্রকাশিত : ২৮ জুলাই, ২০২৫ ১১:১৩ (মঙ্গলবার)
নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে

ছবি: সংগৃহিত।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার তাপ ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে এ ঘোষণা দিতে পারেন বলে সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দেওয়া হবে আগস্টের শুরুতেই।

জুলাই সনদ ও ঐকমত্যের উদ্যোগ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে একটি খসড়া ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করেছে, যা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে। এসব আলোচনা শেষ হবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যেই। আশা করা হচ্ছে, ৫ আগস্টের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতিতে এই সনদ ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

তবে বিভিন্ন দল নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতির প্রবর্তনসহ নানা দাবি তুলেছে। এসব ইস্যুতে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিএনপি।

প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস
২৬ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১৪টি দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করবেন।’

তবে প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকলেও নির্বাচনী প্রস্তুতি ও অরাজকতা মোকাবেলায় রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রতিক্রিয়া
বিএনপি নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের দাবি তো এটিই ছিল। প্রধান উপদেষ্টা যদি নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেন, তাতে আমরা খুশি।’

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘জুলাই সনদ ঘোষণার আগে নির্বাচন নির্ধারণ করা হলে তা চেতনাকে উপেক্ষা করা হবে। সংস্কার ও বিচার ছাড়া নির্বাচনের ঘোষণা অগ্রহণযোগ্য।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, ‘যদি জুলাই সনদ দ্রুত চূড়ান্ত হয়, তাহলে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই।’

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। লক্ষ্য একটাই-জুলাই সনদ ও নির্বাচন নিয়ে আর কোনো অনিশ্চয়তা না থাকা।