ছবি: সংগৃহিত।
কাজের প্রলোভন দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ থেকে একদল তরুণীকে পাচারের চেষ্টা করছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তবে শিলিগুড়িতে পুলিশের তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে রক্ষা পেলেন ওই ৩৪ জন তরুণী।
রবিবার (২৭ জুলাই) রাতে শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানার পুলিশ সন্দেহজনক একটি যাত্রীবাহী বাস আটক করে। তল্লাশিতে দেখা যায়, বাসটি তরুণীতে ঠাসা, যাদের সবাইকে নেওয়া হচ্ছিল তামিলনাড়ুতে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কেউই সঠিকভাবে গন্তব্য বা কর্মস্থলের নাম বলতে পারেননি। কেউ কেউ জানান, তারা তামিলনাড়ু যাচ্ছেন কাজের উদ্দেশ্যে, তবে বৈধ কোনো নিয়োগপত্র বা চুক্তিপত্র দেখাতে পারেননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাসটি আলিপুরদুয়ারসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা বাগান ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে তরুণীদের তুলে এনেছিল একটি মানবপাচার চক্র। পরিকল্পনা ছিল প্রথমে রাঁচি হয়ে পরে সোজা পৌঁছে দেওয়া হবে তামিলনাড়ুতে। তবে তার আগেই শিলিগুড়ি থেকে বাসটি বেরোতে গেলে পুলিশের সন্দেহ হয় এবং চালানো হয় চেকিং।
এর আগে ট্রেনে নারী পাচারের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই পুলিশ ছিল সজাগ। এবার পাচারকারীরা রেলপথ ছেড়ে বাস রুট বেছে নিলেও শেষরক্ষা হলো না।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে, যাদের মধ্যে দুজন নারী এবং একজন স্থানীয় নারী পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। জানা গেছে, প্রতি তরুণী পাচারে ওই এজেন্টের আয় হতো চার হাজার টাকা।
উদ্ধার হওয়া তরুণীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদেরও সোমবারের মধ্যে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ধৃত তিনজনের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং তাদের আদালতে তোলা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চলটি ক্রমেই নারী পাচারের করিডর হয়ে উঠছে।