অভিযুক্ত ৪ ধর্ষক (ছবি সংগৃহিত)
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে এক স্কুলছাত্রী ‘ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের’ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে এলাকাবাসী।
ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর বারহাল ছাত্র পরিষদ ও বারহালের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে মিছিল সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তারা দ্রুত ধর্ষকদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।
বুধবার বিকেলে বারহাল ছাত্র পরিষদ ও বারহালের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে শাহগলী বাস স্টেশনে প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বারহাল ডিগ্রি কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি ফয়জুল হক চৌধুরী, শাহগলী বাজার ব্যয়সায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক খান, বিনপি নেতা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, সাংবাদিক এখলাছুর রহমান, বুরহান উদ্দিন রনি, সাদিক আহমেদ তাপাদার, সাইফুর রহমান, সাফায়েত রশিদ চৌধুরী, সুলেমান আহমেদ, শাহীন আহমেদ, তাহসিন আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তাগণ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। অন্যথায় এলাকাবাসী বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে হুশিয়ারি দেন।
এদিকে জকিগঞ্জ থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না ইমজা নিউজকে জানান, বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার নিদনপুর গ্রামের খছরুজ্জামানের ছেলে ইমরান আহমদ (২৩), খিলগ্রামের আব্দুল বাছিতের ছেলে তানজিদ আহমদ (১৮), মাইজগ্রামের আজাদ আহমেদের ছেলে শাকের আহমদ (২৪), মাইজগ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে শাকিল আহমদ (২১) ও মনতইল গ্রামের ফইজ আলীর ছেলে মুমিন আহমদ (২০)।

মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, শনিবার (২৬ জুলাই) স্কুলছাত্রী তার এক বন্ধুর সঙ্গে শাহগলি বাজারের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা এলাকায় বেড়াতে যান। তখন বখাটে পাঁচ যুবক গোপনে তাদের কিছু ছবি তোলে। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিনজন মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। বাকি দুজন সহায়তা করে।
ওসি বলেন, 'বিষয়টি ধামাচাপার চেষ্টা করা হয়। মঙ্গলবার রাতে খবর পেয়ে আমরা স্কুলছাত্রীকে হাসপাতালে পাঠাই এবং পরিবারকে মামলা করার পরামর্শ দেই।'
ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলা করতে দেরি হওয়ায় আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেছে। তবে তাদেরকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে বলেও জানান ওসি।