প্রকাশিত : ৩১ জুলাই, ২০২৫ ১২:২৭ (মঙ্গলবার)
পূর্বাচলে প্লট জালিয়াতি: শেখ হাসিনাসহ পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পৃথক ছয়টি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকসহ পরিবারের ৭ সদস্য এবং আরও ১৬ জনসহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম পৃথক ছয়টি মামলায় এ অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, এদিন তিনটি মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

প্রথম মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ জন, দ্বিতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জন ও তৃতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জন আসামি

আদালত জানান, মামলার সব আসামি বর্তমানে পলাতক। সে কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার পটভূমি:

২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অভিযোগ উঠে, পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর পূর্বাচল প্রকল্পে প্রায় ৬০ কাঠা জমির প্লট অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে।

এ অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চে ছয়টি মামলার অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক। এরপর শেখ হাসিনাসহ পরিবারের সদস্যদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং গত এপ্রিল মাসে পৃথক তিনটি মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

আদালত ১১ ও ১৩ আগস্ট মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
এই মামলাগুলোর বিচারে দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচারিক প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।