প্রকাশিত : ০৪ আগস্ট, ২০২৫ ১৩:২০ (মঙ্গলবার)
সাতক্ষীরার লক্ষ্মীদাঁড়ি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত

ছবি: সংগৃহিত।

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ছররা গুলিতে শেখ আলমগীর হোসেন (৩৫) নামের এক বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছেন। সোমবার (৪ আগস্ট) ভোর সাড়ে চারটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লক্ষ্মীদাঁড়ি সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

আহত আলমগীর হোসেন ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীদাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা শেখ সাঈদ হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আলমগীরের মুখ, মাথা ও চোখের ভুরুতে ছররা গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত।

আহত আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, সীমান্ত ঘেঁষা কুমড়োর খালের পাশে তার একটি মাছের ঘের রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে ঘেরটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তিনি সোমবার ভোরে জাল দিয়ে ঘেরটি ঘিরতে যান। এ সময় ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার ঘোজাডাঙা বিএসএফ ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা কোনো সতর্কতা ছাড়াই তার দিকে গুলি ছোড়ে।

তবে আলমগীরের এই বক্তব্য অস্বীকার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির ভোমরা ক্যাম্পের সুবেদার মো. জহিরউদ্দিন বলেন, আমাদের নিজস্ব সূত্রে জানা গেছে-আলমগীর গত ৩০ জুলাই অবৈধভাবে ভারতের বসিরহাট মহকুমায় তার আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সোমবার ভোরে বাংলাদেশে ফেরার সময় ভারতের ঘোজাডাঙা এলাকায় বিএসএফ তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

আলমগীরের ভাগনে বেলাল হোসেন জানান, ভোরে মামা ফোনে জানান যে তার গায়ে গুলি লেগেছে। পরে ভোমরা বাজারে তার সঙ্গে দেখা হলে মুখে ছররা গুলির আঘাত দেখতে পান। স্থানীয় এক মোটরসাইকেল চালক আবু হোসেন বলেন, ভোরে জাহাঙ্গীর মার্কেট এলাকা থেকে তিনি আলমগীরকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এ বি এম আক্তার মারুফ জানান, সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে আহত অবস্থায় আলমগীরকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মুখমণ্ডল ও মাথায় ছররা গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।