প্রকাশিত : ০৯ আগস্ট, ২০২৫ ১২:৩৭ (মঙ্গলবার)
টানা পতনে কাঁপছে ভারতের শেয়ারবাজার, শীর্ষ সূচকে বড় ধস

ছবি: সংগৃহিত।

সপ্তাহের শেষ দিনে বড় ধাক্কা খেল ভারতের শেয়ারবাজার। শুক্রবার (৮ আগস্ট) সেনসেক্স, নিফটি ৫০ ও ব্যাংক নিফটি-তিনটি সূচকই প্রায় ১ শতাংশ করে হারিয়েছে।

দিন শেষে সেনসেক্স দাঁড়িয়েছে ৭৯,৮৫৭.৭৯ পয়েন্টে (-৭৬৫.৪৭), নিফটি ৫০ হয়েছে ২৪,৩৬৩.৩০ পয়েন্টে (-২৩২.৮৫) এবং ব্যাংক নিফটি নেমেছে ৫৫,০০৪.৯০ পয়েন্টে (-৫১৬.২৫)। বিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানির বাজারমূল্য এক দিনে প্রায় ৫ লাখ কোটি রুপি কমে ₹৪৪৫ লাখ কোটি থেকে ₹৪৪০ লাখ কোটি রুপিতে নেমে এসেছে। টানা ছয় সপ্তাহ ধরে সূচকগুলো পতনের মুখে আছে।

শুক্রবার সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে এইচডিএফসি ও ভারতীয় এয়ারটেলের শেয়ার। নিফটির প্রায় সব খাতেই পতন হয়েছে-নিফটি স্মল ক্যাপ ১.৪% ও মিড ক্যাপ ১.১% কমেছে। সাপ্তাহিক হিসাবে ব্যাংক খাত কিছু মুনাফা দেখালেও আইটি, ফাইন্যান্স, জ্বালানি, তেল ও গ্যাস, এফএমসিজি এবং ওষুধ খাতে বড় দরপতন হয়েছে। আদানি এন্টারপ্রাইজের শেয়ার এক সপ্তাহে কমেছে প্রায় ৭%। বস্ত্র রপ্তানি খাতের কেপিআর মিল, গোকলদাস এক্সপোর্ট, বর্ধমান টেক্সটাইল ও ট্রিডেন্টের শেয়ারও বড় পতনের মুখে পড়েছে। বিপরীতে হিরো মোটোকর্প ও এলআইসির শেয়ারদর বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতিই ভারতের বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। উচ্চ শুল্ক আরোপ ও আক্রমণাত্মক অবস্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধাক্কা দিয়েছে। ৫০% শুল্কের প্রভাবে ভারতের জিডিপি ১% পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) টানা শেয়ার বিক্রি, কোম্পানিগুলোর আয় হ্রাস ও বাজারের অতিমূল্যায়ন।

জিওজিত ইনভেস্টমেন্টসের গবেষণাপ্রধান বিনোদ নায়ারের মতে, শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ভারতের শেয়ারবাজার তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৫ ও ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়ে দিচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহেও ধাক্কা লেগেছে। জানুয়ারিতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ বেরিয়ে যাওয়ার পর মার্চে পরিস্থিতি কিছুটা সামলে ওঠে। তবে জুলাই থেকে আবারও বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের ধারা শুরু হয়েছে, যা আগস্টেও অব্যাহত রয়েছে।