প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ১১:৪৭ (মঙ্গলবার)
ইনক্রিমেন্টের নামে চা শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা বন্ধের দাবি

ছবি: সংগৃহীত।

দৈনিক মজুরি মাত্র ৮.৯২ টাকা (৫% ইনক্রিমেন্ট) বৃদ্ধি করে চা শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ বন্ধ, দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণ এবং ‘গেজেট-২০২৩’ বাতিলের দাবিতে ১৩ আগস্ট লালাখাল চা বাগানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে চা শ্রমিক ঐক্য, লালাখাল চা বাগান শাখা।

চা শ্রমিক ঐক্য, লালাখাল চা বাগান শাখার সভাপতি সুহেল বুর্নাজীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক, চা শ্রমিক নেতা ও বাগান সভাপতি অরুণ গোয়ালা, বিজন বুনার্জী, সুশেন কুর্মী প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘গত ৩০ জুলাই চা শ্রমিকদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে সরকার ও মালিক পক্ষ ‘গেজেট-২০২৩’ অনুযায়ী ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে মজুরি মাত্র ৮.৯২ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১৮৭ টাকায়। যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।গত সরকারের সময়ে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে ‘গেজেট-২০২৩’ করা হয়। এ অনুযায়ী চা শ্রমিকদের দৈনিক মূল মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং প্রতি বছর ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের বিধান রাখা হয়। এর ফলে প্রথম বছর মজুরি ৮.৫০ টাকা বেড়ে হয় ১৭৮.৫০ টাকা এবং এবার ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হচ্ছে ১৮৭ টাকা-যা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ।’
বক্তারা বলেন, ‘শুরু থেকেই এই ‘গেজেট-২০২৩’ বাতিলের দাবিতে চা শ্রমিকরা সরব ছিলেন, কিন্তু এখনো তা বাতিল করা হয়নি। আমরা দাবি করছি অবিলম্বে এই গেজেট বাতিল করে দৈনিক মূল মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এই গেজেট অত্যন্ত সুকৌশলে মজুরি নির্ধারণের আলোচনায় চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে বাদ দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, একবার গেজেট প্রকাশিত হলে চা শ্রমিক প্রতিনিধিরা ৫ বছর মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে পারবেন না, কেবল মজুরি ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে কথা বলতে পারবেন।এটি গত সরকারের একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত। সরকার পরিবর্তন হলেও এখনো এই গেজেট বাতিল হয়নি। আমরা অবিলম্বে এই গেজেট বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় চা বাগানের ছাত্র-যুবক ও শ্রমিকদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’