প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ২১:৪৬ (মঙ্গলবার)
ওসমানী রিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানী বন্ধে অভিযান: ৫ জনের কারাদন্ড

ছবি- সংগ্রহ

সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের হয়রানি রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে অভিযান করে পাঁচজনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯আগষ্ট) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমদাদুল হক শরীফ সাংবাদিকদের জানান, বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে লোডার পরিচয়ধারী ব্যক্তি টাকা দাবী এবং হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। তাই বিমানবন্দরের ক্যানোপি ও কার পার্কিং এলাকায় নিয়মিত অভিযান শুরু করা হয়েছে। অভিযানের পর যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে নিজস্ব লাগেজ নিয়ে গাড়িতে উঠতে পারছেন এবং এখন আর কোনো হয়রানির অভিযোগ নেই।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, যাত্রীদের লাগেজ টার্মিনাল থেকে গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য দুটি প্রতিষ্ঠান ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সার্ভিস হিসেবে কাজ করছে। যাত্রীদের যাদের লাগেজ সরাসরি গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তারা নিজে ট্রলিতে লাগেজ নিয়ে গেলে লোডার পরিচয়ধারী তিন-চারজনের একটি টিম তাদেরকে লক্ষ্য করত। গাড়িতে লাগেজ ওঠানোর পরপরই তারা অন্যায়ভাবে নগদ টাকা দাবি করত। দাবি মেনে না নিলে যাত্রীদের নানা ধরনের হয়রানি করা হতো।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে ৪০-৫০ সদস্যের একটি চক্রের মাধ্যমে হচ্ছিল।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ৩ জুলাই এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে, যাতে যাত্রী হয়রানি, অবৈধ পার্কিং, হকার ঘোরাঘুরি, নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত গাড়ি পার্কিং, অনিয়মিত যানচলাচল এবং অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমদাদুল হক শরীফ বলেন, ‘আমরা বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে এবং লোডারদের হয়রানি রোধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। আশা করি, এ ধরনের হয়রানি পুরোপুরি নির্মূল হবে।’