শিরোনাম
১৪ মার্চ সিলেট আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটে হারানো ফোন ফিরে পেলেন ৭০ জন সিলেটে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃ*ত্যু: চালক গ্রে ফ তা র সিলেটে চলছে ব্যাপক অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় ছি/ন/তা/ই/কা/রীসহ ধরা ৬৬ জন মন্ত্রী-এমপিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ তারেক রহমানের দেশের ব্যাংকগুলোকে নতুন নির্দেশনা সিলেটে অ'বৈধ ডিজেল মজুদের বিরুদ্ধে অভি'যান, ১২০০ লিটার জব্দ সিলেটে প্রাইভেট কারে তুলে নারীকে অ/প/হ/র/ণ চেষ্টার দায়ে গ্রে ফ তা র ৩ সিলেটে অ/প/হ/র/ণ/কান্ডে ছেলে গ্রে/ফ/তা/র: বিএনপি থেকে বাবার পদত্যাগ সিলেটে তেল না পেয়ে কর্মচারীকে ছু/রিকা/ঘাত: তিনজন গ্রে ফ তা র

https://www.emjanews.com/

11665

sylhet

প্রকাশিত

২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:২৪

সিলেট

ছাতক

ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে উপজেলা প্রকৌশলী বদলি

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:২৪

ছবি: মো. রফিকুল ইসলাম

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) ব্যাপক ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে।

রবিবার (২৩ নভেম্বর) এলজিইডির প্রধান কার্যালয় আগারগাঁও, শেরে বাংলা নগর থেকে জারি করা এক আদেশে তাঁকে ছাতক থেকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা এলজিইডিতে বদলি করা হয়।

প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) জোবেদ করিম স্বাক্ষরিত পত্র অনুযায়ী রফিকুল ইসলামের বদলি ‘জনস্বার্থে’ কার্যকর করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

এলজিইডির ছাতক কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় ঠিকাদার, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয়দের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণ, বিল অনুমোদনে জটিলতা সৃষ্টি, অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দাবি এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ছাতকের ১৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে বিভিন্ন দপ্তরে।

অভিযোগে বলা হয়, বিল ছাড়ের আগে নিয়মিত ঘুষ দাবি করতেন তিনি। বিশেষ করে জিপিএস স্কুল প্রকল্পে ২ শতাংশ ঘুষ ছাড়া কোনো বিল অনুমোদন করা হতো না।

এছাড়া এসডিআইআর আইআইপি-৩ প্রকল্পে উপসহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় সিংহের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারদের অভিযোগ, কাজ পরিদর্শনের নামে গাড়ি ভাড়া বাবদ ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা করে আদায় করা হতো। ঘুষ ছাড়া কোনো বিল অনুমোদন বা দরকারি কাগজপত্রে স্বাক্ষর দিতেন না তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির এই দপ্তরে প্রকল্প শুরুর আগেই ঘুষের হিসাব ঠিক করে নিতে হতো। কোনো ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ দিতে না পারলে তাঁদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হতো। অনেক সময় কাজের অগ্রগতি থাকা সত্ত্বেও বিল আটকে দেওয়া, অনর্থক ত্রুটি দেখানোসহ নানা হয়রানির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

এছাড়া স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রফিকুল ইসলাম শুধু ছাতকেই নয়, সিলেট বিভাগের একাধিক উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিকবার বদলি হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সীমাহীন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বারবার সিলেট বিভাগেই বিভিন্ন পদে পদায়ন করে রাখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, কঠোর বিভাগীয় শাস্তির অভাব এবং শুধু বদলি করেই দায় শেষ করার প্রবণতা দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করছে।

এ ঘটনায় ছাতকের ঠিকাদার মহলে স্বস্তি ফিরলেও তাঁরা দাবি করেছেন-শুধু বদলি নয়, দীর্ঘদিনের দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কর্মকর্তা এমন অনিয়মে জড়ানোর সাহস না পান।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, আগারগাঁও, শেরে বাংলা নগরস্থ এলজিইডি অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাতকে বিভিন্ন অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মো. রফিকুল ইসলামকে ছাতক থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।’