ছবি: সংগৃহীত
গত ২৩ মে (শনিবার) বিকেলে গোলাপগঞ্জ উপজেলার উত্তর জাঙ্গালঘাটা গ্রামে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘাতক স্বামী একই গ্রামের সদরুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ইমরান। নিহত গৃহবধূর নাম তাহমিনা আক্তার মোহনা।
ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যান দৈনিক নয়া দিগন্তের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি সৈয়দ জেলোয়ার হোসেন স্বপন এবং সাপ্তাহিক সকালের দিগন্তের স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি ফারহান ইসলাম রাজু। তারা গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। এসময় সাংবাদিক ফারহান ইসলাম রাজু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার শুরু করলে বাধার মুখে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জামিল আহমেদের নাম ব্যবহার করে কয়েকজন যুবক এসে লাইভে বাধা দেয় এবং কার অনুমতিতে লাইভ করা হচ্ছে বলে প্রশ্ন তোলে।
সাংবাদিকরা জানান, হত্যাকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করা তাদের পেশাগত দায়িত্ব এবং এ কাজে কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এ কথা বলার পর অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
জানা যায়, একপর্যায়ে তারা ফারহান ইসলাম রাজুর মোবাইল ফোন টানাহেঁচড়া করে ছিনিয়ে নিয়ে আছাড় মেরে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফোনটি ফেরত নিতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এসময় তাকে মারধর, হুমকি এবং জোরপূর্বক লাইভ সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দেয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফারহান ইসলাম রাজু বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এভাবে হামলার শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও ভয়ঙ্কর। একটি হত্যাকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদের হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে-সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুরো ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জামিল আহমেদের নাম উঠে এসেছে। কেন হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কার ইন্ধনে এই হামলা হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।’
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জামিল আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা হামলা করেছে তাদের আমি চিনি, তবে হামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোছলেহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি ফোনটি উদ্ধার করে দিয়েছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
