শিরোনাম
নতুন করে যাচাই হবে জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা, বাদ পড়াদের আবেদনের সুযোগ জানা গেল সরকারি চাকুরিতে শূন্য পদের সংখ্যা সাবেক এমপি সুলতান মনসুর ফের গ্রেপ্তার সিলেটে ৮৫ পূজামণ্ডপে সিসিকের সর্বাত্মক প্রস্তুতি চাকরির আশায় রাশিয়ায়, যুদ্ধে প্রাণ গেল ২০ বাংলাদেশির: এসআরবি পানি-মোটরসাইকেল যেনো কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে শাবির সম্ভাবনাময় তরুণদের: ১০ মাসে ঝরল ৭ প্রাণ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নি/হ/ত সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় নতুন হাম শনাক্ত ও মৃত্যু নেই, ভর্তি ১২৩ ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সিলেটে মোটরবাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল কিশোরের

https://www.emjanews.com/

19627

tourism

প্রকাশিত

১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২১:৪৮

পর্যটন

আখাউড়া-শায়েস্তাগঞ্জ রেলপথ পরিদর্শন: ত্রুটি ও জনবল সংকট শনাক্ত, সার্বিক মূল্যায়ন ইতিবাচক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২১:৪৮

ছবি: ইমজা নিউজ

আখাউড়া–শায়েস্তাগঞ্জ রেলপথের বার্ষিক পরিদর্শনে কিছু ত্রুটি ও জনবল সংকট শনাক্ত করেছে সরকারি রেল পরিদর্শক (জিআইবিআর) আহমেদ মাহবুব চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দল। তবে সার্বিকভাবে পরিদর্শন কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বড় ধরনের কোনো সমস্যা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সরকারি রেল পরিদর্শক। 

চিহ্নিত সমস্যাগুলো নথিভুক্ত করে সমাধানে কাজ করার কথাও জানান তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে সরকারি রেল পরিদর্শকের দলটি বিশেষ ট্রেন ‘জিআইবিআর স্পেশাল’রেলকোচ  নিয়ে আখাউড়া জংশন থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথের বিভিন্ন স্থাপনা, স্টেশন ও কার্যক্রম পরিদর্শন করে। 

এ সময় রেললাইন, সেতু, কালভার্ট, লেভেল ক্রসিং গেট, সংকেতব্যবস্থা, স্টেশন অবকাঠামো, বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম, জনবল এবং যাত্রীসেবার মান খতিয়ে দেখা হয়।

সরকারি রেল পরিদর্শক আহমেদ মাহবুব চৌধুরী ইমজা নিউজ কে বলেন, ‘সরকারি রেল পরিদর্শন বিভাগের পক্ষ থেকে আজ আখাউড়া থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত পরিদর্শন করেছি।রেললাইন, সেতু, কালভার্ট, লেভেল ক্রসিং গেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরীক্ষা করেছি। একটি ট্রেনও পরিদর্শন করেছি। আমাদের পরিদর্শন কর্মসূচিতে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেগুলো খতিয়ে দেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, পরিদর্শনে কিছু সমস্যা ও ত্রুটিবিচ্যুতি পাওয়া গেছে। তবে সার্বিকভাবে আমরা পরিদর্শনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। বড় ধরনের কোনো সমস্যা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। রেলওয়েতে জনবলের স্বল্পতা রয়েছে। বিষয়গুলো আমরা নথিভুক্ত করেছি এবং এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করব।

পরিদর্শক দলটি বুধবার সকাল ৬টায় ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আখাউড়া জংশনে পৌঁছায়। সেখানে স্টেশন অবকাঠামো, ইয়ার্ডের অবস্থান, দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং যাত্রীসেবার বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করা হয়। প্রাথমিক পরিদর্শন শেষে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে দলটি শায়েস্তাগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করে।

পথে রেলপথের অবস্থা, সেতু ও কালভার্ট, লেভেল ক্রসিং গেট এবং সংকেতব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি স্টেশন ও দপ্তরের বিভিন্ন নিবন্ধন খাতা, হাজিরা খাতা এবং কর্মীদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাসংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কার্যক্রম, কর্মীদের দায়িত্ব পালন এবং প্রয়োজনীয় জনবল রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা হয়।

দুপুর ২টা ১০ মিনিট থেকে ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত নোয়াপাড়া রেলস্টেশনে অবস্থান করে পরিদর্শক দল। 

এ সময় স্টেশন ভবন, রেললাইন, দাপ্তরিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। স্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের কাজের পরিবেশ ও কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হয়।

পরিদর্শনের আওতায় ছিল রেলওয়ের প্রকৌশল, ট্রাফিক ও পরিবহন, যান্ত্রিক, ক্যারেজ ও ওয়াগন, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা, লোকোমোটিভ, বাণিজ্যিক, টেলিযোগাযোগ, রেডিওটেলিযোগাযোগ এবং সংকেত বিভাগ। এসব বিভাগের কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা সেবার ঘাটতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অবকাঠামোর অবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়।

স্টেশন এলাকায় টিকিট কাউন্টার, যাত্রীবিশ্রামাগার, শৌচাগার, বিদ্যুৎ সংযোগ, দোকানপাট এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রমও পরিদর্শন করা হয়। 

দোকানপাটে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি নজরে এলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্টেশন প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা, যাত্রীদের চলাচলের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিকেল প্রায় ৪টায় জিআইবিআর স্পেশাল ট্রেনটি শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছায়। সেখানে পরিদর্শক দলের সদস্যরা ঢাকাগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেন পরিদর্শন করেন। এ সময় টিকিটসংক্রান্ত বিষয় পরীক্ষা করা হয় এবং বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন রোধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। ট্রেনের খাবার গাড়িসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও পরিদর্শনের আওতায় আসে। 

পাশাপাশি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান, নিরাপত্তা ও ভ্রমণসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

পরিদর্শনে চিহ্নিত সীমাবদ্ধতাগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রেলপথ ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দাপ্তরিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সরকারি রেল পরিদর্শকের বার্ষিক পরিদর্শনের উদ্দেশ্য হলো রেলপথ ও রেলওয়ে স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই, বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা, জনবল ও সেবাসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া। দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ অক্টোবর সিলেট–ছাতক বাজার সেকশনের রেলপথ ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাও পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।