শিরোনাম
রাজশাহীতে ধর্মসভা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় ডিবির অভিযান, মদ-ইয়াবা উদ্ধার, নারীসহ আটক ৮৪ ইউপি নির্বাচন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ সিলেটে এক সিএনজি চালকের ছু/রিকাঘা/তে আরেক চালক খু/ন সিলেটে স্কুল ছাত্রীর মায়ের মাম/লায় গ্রে/প্তার ‘প্রেমিক’ সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের জালে ৩০ জন পুতিন-ট্রাম্প-শি’র ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা বাংলাদেশিদের অবৈধ পথে ইউরোপযাত্রা ঠেকাতে ঢাকার সহযোগিতা চায় গ্রিস সৌদি আরবে ১০ মাসে ১৮৮ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, সবচেয়ে বেশি মাদক মামলায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে তিন জেলায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

https://www.emjanews.com/

19815

national

প্রকাশিত

২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:২০

জাতীয়

কম্বোডিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে দেশে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:২০

ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় গিয়ে অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারে আটকে পড়া ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। দেশটির রাজধানী নমপেনের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তাঁরা।

দেশে ফেরা বাংলাদেশিরা হলেন মো. হারুন অর রশীদ, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, মো. তারলিব হাসান তিতুল, সুমিত চন্দ্র দাস, রাকিব হোসেন, বাপ্পি দাস, মো. লাবন শেখ, মো. আবদুর রহমান, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. মোস্তফা, নূর নবী, মো. ইমন আলী, মো. বারকাতুল্লাহ, মো. রুবেল মিয়া, আলী আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম, শামসুল আলম, মো. আবদুর রহমান (২), আবু জাহের সবুজ, শাওন, নাহিদ ঢালি, রাজু হোসেন, মো. তৈয়ব আলী শেখ, সাইমন ভূঁইয়া, মো. রাশেদুল, মো. আকাশ আহমেদ, মো. শিমুল আলী, আশিকুর রহমান, মো. আলামিন পিকে ও মোহাম্মদ কবির।

ভুক্তভোগীদের বিবরণ অনুযায়ী, কাজের সন্ধানে কম্বোডিয়ায় পাড়ি জমিয়ে তাঁরা দেশটির বিভিন্ন অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারে প্রতারক চক্রের হাতে বন্দি হন। সেখানে তাঁদের নির্যাতন ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়।

পরবর্তী সময়ে কম্বোডিয়া সরকার অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি কর্মীদের বিনা জরিমানায় দেশে ফেরার বিশেষ সুযোগ দিলে তাঁরা নিজ উদ্যোগে ফেরার জন্য নাম নিবন্ধন করেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৩ সেপ্টেম্বর নমপেন বিমানবন্দরে পৌঁছান তাঁরা। তবে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় অবৈধ অবস্থান ও ভিসা জটিলতার অভিযোগে ৩২ বাংলাদেশিকে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়।

পরে তাঁদের মধ্যে দুজন মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরলেও বাকি ৩০ জন নমপেনের ডিটেনশন সেন্টারে আটকে ছিলেন।

এ পরিস্থিতিতে ‘অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন’ নামের একটি মানবাধিকার ও ভুক্তভোগী সহায়তা সংগঠন জরুরি আবেদন জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোগ নেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিষয়টি জানার পর ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিবকে আটক বাংলাদেশিদের আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি এবং দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অবশেষে মুক্তি পান ওই ৩০ বাংলাদেশি। পরে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন তাঁরা।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকা এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা পেরিয়ে স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরে দেশে ফেরা তরুণদের মধ্যে স্বস্তি ও আবেগের সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দরেই তাঁদের অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

চাকরির প্রলোভনে বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়ার এ ঘটনা বিদেশগামী কর্মীদের জন্য নিরাপদ অভিবাসন, চাকরির প্রস্তাব যাচাই এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সতর্কতার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।