সিলেটের সেই বাপ্পি বিএনপি নেতার ছেলে: দু’বার পুলিশে দিয়ে অবশেষে করেন ত্যাজ্য
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ ১৫:০২
(বা থেকে) র্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্য, গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পি
সিলেট নগরীতে আলোচিত র্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার আসাদুল আলম বাপ্পিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পি নগরীর কাজিরবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেনের ছেলে। বাপ্পির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন তিনি। একপর্যায়ে অতিষ্ট হয়ে তার পিতা তাকে ত্যাজ্য করেন।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী ইমজানিউজকে বলেন, ছেলেটি আবুল হোসেনের ছেলে, এটি সত্য। তবে দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে পিতার কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগেও দুবার তার বাবা তাকে পুলিশে দিয়েছেন। অতিষ্ট হয়ে অপকর্মের কারণে পিতা তাকে মৌখিকভাবে ত্যাজ্য করেছেন বলে তার পিতা আমাকে জানিয়েছেন। তার পিতা আমাকে বলেছেন তাদের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই।
এমদাদ হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, বাপ্পি একজন অপরাধী। সে যে নেতার ছেলেই হোক না কেন, তার অপরাধের জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। বিএনপি ছিনতাই ও মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। তাই এমন ঘটনায় জড়িত যে কেউ আইনের আওতায় আসবে এবং শাস্তির মুখোমুখি হবে। এ ঘটনায় পিতার রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় টেনে আনা সঠিক নয়। অপরাধীকে তার ব্যক্তিগত অপরাধের জন্যই দায়ী করা উচিত।
র্যাব-৯ ও পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার নগরীর কিনব্রিজ এলাকায় ধাওয়া চলাকালে সাদা পোশাকে থাকা র্যাব সদস্য ইমন আচার্য এগিয়ে এলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত বাপ্পিকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি বাসায় ঢুকে এক শিশুকে জিম্মি করার চেষ্টা করা হলে যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শনিবার (২৩ মে) সকালে নিহতের ভাই সুজিত আচার্য বাদী হয়ে এসএমপির কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটক আসাদুল আলম বাপ্পিকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, আটক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই দিন ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
