চালু হবে সিলেট-গৌহাটি সরাসরি ফ্লাইট : বাণিজ্যমন্ত্রী
‘অপরাধীদের শনাক্তে পুলিশ ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারে’
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ ১৯:৪২
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিগগিরই সিলেট থেকে ভারতের গৌহাটির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার বিকেলে সিলেটের মুসলিম সাহিত্য সংসদে মহানগর বিএনপি আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য বিমান কার্গো ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করা। বিমানবন্দরের স্টোরেজ হাউজে অগ্নিকাণ্ডের পর সৃষ্ট সংকট নিরসনেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এটিকে আঞ্চলিক যোগাযোগের হাবে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিলেট-গৌহাটি সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি চলছে।
এ সময় সিলেট নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে প্রয়োজন হলে পুলিশ ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছর সারাদেশে প্রায় ৫৬ লাখ ৫০ হাজার কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা সরকারের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। চামড়া শিল্পের উন্নয়নে বিভাগীয় শহরগুলোতে আধুনিক স্লটার হাউস নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এছাড়া রাজধানীর ক্ষতিগ্রস্ত ট্যানারি মালিক ও ব্যবসায়ীদের পুনরায় ব্যবসায় ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।
সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, শিগগিরই সিলেটের ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। পাশাপাশি সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১২ শয্যার একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া সাহেবের বাজার থেকে টিলাগড় পর্যন্ত একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভারী পণ্যবাহী যানবাহন নগরীতে প্রবেশ না করে বিকল্প পথে চলাচল করতে পারে। নগরীর চারপাশে লিংক রোড নির্মাণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ক্ষুদ্র ও ঋণবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম. এ. মালিক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালি পংকি এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম।
এছাড়া মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. নাজমুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জিয়াউল গণি আরেফিন জিল্লুর, আমির হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা জামান রোজী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউল বারী খোরশেদ, সৈয়দ রেজাউল করিম আলো, আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল, মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জীবন, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা সম্রাট, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী এবং মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
